জেটির নিলাম শেডে আগুন বন্দরের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

15

ঘটনাটি ভয়াবহ বললে অত্যুক্তি হবে বলে মনে হয় না। দেশের প্রধান এবং বৃহত্তর সমুদ্র বন্দরের নিলাম শেডে আগুন আর কোটি টাকার আমদানি করা পরিত্যক্ত (নিলামযোগ্য) মালামাল পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে দেশে। এতে সরকারের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে-এটি নির্দ্বিধায় বলা যায়। এ ঘটনার নেপথ্যে নানা মুনির নানা কথা শোনা গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কোন কিছুই বলা যাচ্ছে না-এমনটি বক্তব্য বন্দর কর্তৃপক্ষের। এ ভয়াবহ অগ্নিকাÐ ঘটেছে গত ১৫ জুলাই বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের ২ নম্বর গেটের কাছে ৩ নম্বর শেডে। এ আগুনে নিলাম শেড পুড়েছে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। সর্বশেষ চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট, নৌবাহিনীর একটি ও নগরীর ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিটের যৌথ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। উল্লেখ্য, পুড়ে যাওয়া শেডটি নিলাম শেড। আমদানিকরা মাল ব্যবসায়ীরা যথাসময়ে বন্দর থেকে ডেলিভারি না নিলে তার স্থান অবশেষে এ এ নিলাম শেডে হয়। নানা প্রক্রিয়ায় সর্বশেষ ওই মালগুলো নিলাম হয়। এর পুরো অর্থটাই বন্দর কোষাগারে অর্থাৎ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। জানা যায়, অগ্নিকাÐে পুড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে গার্মেন্টের কাপড়, দামি মেশিনারিজ ও কেমিক্যাল। এসব পণ্যের মূল্য কত এবং আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের সূত্রমতে, শেডটির পাশে নির্মাণাধীন একটি ভবনে শ্রমিকরা রান্নাবান্নার কাজ করত, সেখান থেকে অসতর্কতাবশত আগুন লেগে থাকতে পারে।
তবে অগ্নিকাÐটি রহস্যজনক বলছেন অনেকে। কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে এ শেডের মাল চুরির ঘটনার ধামাচাপা দিতে আগুন লাগিয়ে দেয়ার মত জঘন্য কাজটি হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করেছে। সূত্র জানায়, ওই শেডে নিলামযোগ্য ও দাবিদারহীন প্রচুর পণ্য ছিল। প্রায়ই এসব পণ্য চুরি হতো। প্রমাণ নষ্ট করার জন্য চোর সিন্ডিকেট আগুন লাগিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাইহোক আগুন লেগেছে এটিই বাস্তব। দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে আগুন এটি কোন ছোট ঘটনা নয়, এর পেছনে অনেক বিসয় থাকতে পারে। কয়দিন আগে রাজধানী ঢাকার বুড়িগঙ্গায় বড় একটি ট্রলার একটি ছোট ট্রলারকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৪জন যাত্রী নিহত হয়েছে। এরমাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরের এ ঘটনা-গভীর চিন্তা ও উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। আমরা জানি, বন্দর কর্তৃপক্ষ এ আগুনের কারণ উদঘাটনে তাৎক্ষণিক পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা আশা করি, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে । ক্লিন ইমেজের কর্মকর্তা বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) মো. জাফর আলমের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিকে দ্রæতই তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আমরা আশা করব, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কাজ পরিচালনা করে যত দ্রæত সম্ভব তা প্রকাশ করা হবে। তদন্তে যদি প্রমাণ পাওয়া যায় অগ্নিকাÐের ঘটনাটি কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা মহলেল ষড়যন্ত্র বা স্বার্থ রক্ষায় ঘটানো হয়েছে, তাহলে সেই দোষী বা দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইনও বলা হয় এ বন্দরকে। এমন একটি স্পর্শকাতর স্থাপনার যে অংশই হোক না কেন, অগ্নিকাÐের ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। দ্বিতীয় কথা, নিলাম শেডটিতে প্রচুর পরিমাণের পণ্য কেন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকল, তারও তদন্ত হওয়া উচিত। দাবি-দাওয়াহীন পণ্যের ব্যাপারে কী করা উচিত, সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই একটা নীতিমালা রয়েছে। সেই নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হবে। বলা হচ্ছে, আলোচ্য শেডটিতে ১৫-২০ বছরের পুরনো ধ্বংসযোগ্য ও নিলামযোগ্য বিপুল পরিমাণ পণ্য ছিল। এত দীর্ঘ সময় ধরে নিলামযোগ্য পণ্য কেন নিলামে উঠানো হয়নি, তা-ও এক প্রশ্ন। মোট কথা, নিলাম শেডটির অগ্নিকাÐের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো যথাযথভাবে পালন করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সুরক্ষার সঙ্গে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তিরও সম্পর্ক রয়েছে।