জীবনে স্বাভাবিকতা ফিরে আসুক

8

নুসরাত সুলতানা

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুরু হলো নতুন যাত্রা। দীর্ঘ দেড় বছর পর ১৩ সেপ্টেম্বর স্কুলে গেলো আমার মেয়ে। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। স্কুল খুলবে সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ, এ ঘোষণা পাওয়ার পর থেকেই আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। আমার বাচ্চাদের নিয়মিত জুম ক্লাউড মিটিংয়ে ডেইলি ৪ টা করে ক্লাস হয়, সময়মতো এক্সাম হয়, মোটকথা পড়াশোনা নিয়মিতই হয়। তাই বই খাতা বা পড়ালেখা গুছানোর কোনো ঝামেলা নেই। তবুও স্কুল থেকে যেসব ইন্সট্রাকশন দেয়া হয়েছে সেসবের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছিলো। বাচ্চাদের জন্যে স্কুল ড্রেস রেডি করে রাখা হয়েছিলো, তাই সে ব্যাপারেও তেমন ঝামেলা নেই। তবুও বাচ্চারা আগেভাগেই স্কুল ড্রেস ট্রায়াল দিয়ে নিলো। যতই দিন ঘনিয়ে আসছিলো ওদের উচ্ছ¡াসও বাড়তে শুরু করলো। তারা স্কুল থেকে রুটিন পাওয়ার অপেক্ষা করছিলো। রুটিন পেলো ১১ তারিখ সন্ধ্যায়। রুটিন দেখে ওদের মন খারাপ হয়ে গেলো। ১২ তারিখ অর্থাৎ প্রথম দিন কারোরই ডেট আসলো না। আরও আশাহত হলো, যখন রুটিনে দেখলো মাত্র ২টা করে ক্লাস। এতোদিন ধরে আশায় আশায় থেকে এখন স্কুলে যাবে তাও সপ্তাহে একদিন মাত্র ২ ঘণ্টার জন্যে! রুটিনে রুম নং দেয়া আছে, একরুমে কয়জন বসবে তাও উল্লেখ আছে, সেখানেও তাদের মন খারাপ, সব প্রিয়গুলো একরুমে বসতেও পারবেনা….। ১২ তারিখ স্কুল খোলার পর বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে, ফেসবুকে অনেক ভিডিও, ছবি দেখে দেখে আমাদের মাঝেও জেগেছে আনন্দময় শিহরণ। স্কুলের ঘণ্টাধ্বনি শুনে পুলকিত হয়েছি আমরা, প্রাণ ফিরে এসেছে স্কুলে, প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছি আমরা।
অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হলো, ১৩ তারিখ সকালে সূর্য উঠার আগেই আমার মেয়ে ঘুম থেকে উঠলো… কী দারুণ উত্তেজনা, পরিপাটি হয়ে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছিলো, ড্রেসআপ করা, চুল চিরুনি করা, ব্যাগ গুছানো, সবকিছুতেই আনন্দ, অন্যান্য সময়ের সবকিছুই আছে, মাস্কটাই শুধু অতিরিক্ত। হ্যাঁ, এটা রাখতেই হবে, স্কুল চলাকালীন পুরোটা সময় মুখে মাস্ক থাকবে (এবার ওদের কে বলতে সহজ হলো, মাস্ক পরে ২ ঘণ্টার বেশি সময় স্কুলে থাকা কতোটা কষ্টের হবে ভেবে দেখো…)। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, মহামারি এখনো মানুষের আয়ত্তে আসেনি, প্রতি মুহূর্তে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাসায় ব্যাক করে ব্রেকফাস্ট শেষ করতেই ওদিকে স্কুলে ছুটির ঘণ্টা বেজে গেলো। মামনি স্কুল থেকে ফিরে এসেছে অনেক আনন্দ নিয়ে, ওরা ক্লাস করেছে, স্কুলের করিডোরে হেঁটেছে, শিক্ষকদের সাথে দেখা হয়েছে, বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছে, ওরা দেখেছে স্কুলের বিশাল সবুজ মাঠ, দেখেছে সবুজ পাহাড়….।
এতোদিনের অপেক্ষা, উত্তেজনা, আনন্দ যেনো নিমিষেই শেষ হয়ে না যায়, এ ধারা যেনো চলতে চলতে স্বাভাবিকতা ফিরে আসে আমাদের সবার জীবনে সে কামনাই করি….।