জিরো পয়েন্ট এখন ‘হিরো পয়েন্ট’

49

সবুর শুভ

শহর থেকে বাঁশখালীর দূরত্ব ৪৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার। এ দূরত্ব মাপা হল কোন স্থান থেকে? চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন অফিসের সামনে থাকা ‘জিরো পয়েন্ট’ থেকে। এ পয়েন্ট থেকেই কিলোমিটার গননা শুরু হয়। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি জিরো পয়েন্ট রয়েছে। বাঁশখালীতে জিরো পয়েন্ট হচ্ছে ‘বাঁশখালী উপজেলা’। জেলা প্রশাসন অফিসের সামনে থাকা সেই জিরো পয়েন্টকে নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বাঙালির মহান বিজয়ের মাসে জেলা প্রশাসনের তরফে জিরো পয়েন্টের স্থাপনাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। স্থাপনাটির সামনে বাগান করা হয়েছে। সবমিলে অপরূপ লাগছে এটিকে।
সার্ভেয়ারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সাগর রক্তের নহর মাড়িয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরের বছর থেকে শুরু হয় বিএস জরিপ কার্যক্রম। এ কাজের সুবিধার জন্য জিরো পয়েন্ট স্থাপন করা হয়। ১৯৭২ সালে বিএস জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়ে একটানা চলে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত। তবে এ সময়ের মধ্যে পুরো সম্পন্ন হয়নি জরিপ।
এ বিষয়ে ভূমি জরিপকারী মোহাম্মদ রানা জানান, জিরো পয়েন্ট বা শূন্য থেকে কিলোমিটার গণনা শুরু করা হয়। চট্টগ্রামের জিরো পয়েন্ট তৎকালীন চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (টিনশেড) আদালত ও জেলা প্রশাসন অফিসের সামনে স্থাপন করা আছে। বিএস জরিপের সুবিধার্থে এ পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছিল। প্রত্যেক জেলা উপজেলায় রয়েছে জিরো পয়েন্ট।
তথ্যমতে, চট্টগ্রামের জিরো পয়েন্ট কোথায়? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকের কাছেই অজানা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব মাথায় আসলেই অনেকের প্রশ্ন জাগে, ঠিক কোন স্থান থেকে কিলোমিটার গননা করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের এ জিরো পয়েন্টটিকে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে এর গুরুত্ব অনুধাবন করেই। কাজটি সম্পন্ন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানটি এতদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। বর্তমানে সংস্কারের মাধ্যমে নান্দনিকভাবে এ জিরো পয়েন্টকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। চট্টগ্রামে যেখান থেকে বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব গণনা শুরু হয় সেই স্থানটি সবার কাছে পরিচিত থাকা দরকার বলেও মনে করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। এ কারণেই মূলত এ উদ্যোগ। কোর্ট বিল্ডিং মানে কোর্ট-কাচারি, অনেক অনেক ফাইলপত্র, প্রশাসনিক কাজের চাপ-এমন ধারণার বিপরীতে এ এলাকা এখন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। পরিকল্পিত সৌন্দর্যায়ন, খোলা জায়গায় সাজানো ফুলের সমারোহ- সৌরভে অন্য এক আমেজ। জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান তার কার্যালয়ের সামনে মনোরম একটা স্থান দেখিয়ে বলেন, এটা যে জিরো পয়েন্ট এ তথ্য অনেকের অজানা। গুরুত্ব বিবেচনায় এ জায়গাটিকে একটা নান্দনিক কাঠামোয় দাঁড় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করি এবং চত্বরটাকে সাজিয়ে তুলি। তিনি পরীর পাহাড়ের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় জেলা প্রশাসনের প্রচেষ্টায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রশংসা করেন।