জিএম কাদেরের নেতৃত্ব নিয়ে হইকোর্টের প্রশ্ন

13

কাউন্সিল ছাড়াই জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পদে থাকা কেন অবৈধ হবে না- তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. জহির উদ্দিনের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের অবকাশকালীন হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ রুল জারি করে।
আবেদনকারী পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর উস সাদিক।
নুর উস সাদিক পরে সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরের নিয়োগটা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- সেই মর্মে রুল দিয়েছে হাই কোর্ট। নির্বাচন কমিশন ও জিএম কাদেরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুসারে দলের পদে আসতে হলে তা আসতে হবে কাউন্সিলের মাধ্যমে। কিন্তু জিএম কাদেরের ক্ষেত্রে তা হয়নি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে উত্তর না পেয়ে হাই কোর্টে রিট করেন জাতীয় পার্টির ওই সদস্য। খবর বিডিনিউজের
আদালতের রুলের বিষয়ে প্রশ্ন করলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায় বলেন, কে কখন আদালতে গিয়ে রিট আবেদন করল, ওসব নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। তবে আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ১৪ দিন পরে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আমরা তা যথাসময়ে দেব। আগামী ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল হওয়ার কথা রয়েছে। হাই কোর্টের রুলের কারণে সম্মেলন বা কাউন্সিল অনুষ্ঠানে ‘কোনো সমস্যা হবে না’ বলেও মন্তব্য করেন সুনীল শুভ রায়।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চলতি বছরের ৫ মে তার ছোট ভাই জিএম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। পরে ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এরশাদ।
এর চার দিনের মাথায় বনানীতে পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরের নাম ঘোষণা করেন।
প্রথমে ওই ঘোষণার বিরোধিতা করলেও পরে এরশাদপত্নী রওশন ও জিএম কাদেরের মধ্যে সমঝোতা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর আরেক সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্গা জানান, জিএম কাদের পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। আর রওশন এরশাদ হবেন সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা।