জানুয়ারিতে রপ্তানি আয়ে ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

7

 

মহামারীর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় থাকা বাংলাদেশ চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪৮৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা গতবছরের প্রথম মাসের তুলনায় ৪১ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বুধবার এ সুখবর দিয়েছে। ভালো প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আয় হয়েছে এ খাত থেকে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৪৩ কোটি ৬৭ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। এ বছর জানুয়ারিতে ৪০৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। সে হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে এ মাসে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ইতিহাসে এটা এক মাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়। সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছিল গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বর; ৪৯০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে ৪৮ দশমিক ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছিল। ২০২০ সালে দেশে মহামারী শুরুর পর লকডাউন আর বিশ্ব পরিস্থিতির চাপে রপ্তানি আয় নেমে গিয়েছিল তলানিতে। এ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানিতে ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। অগাস্টে একক মাসে ১৪ দশমিক ০২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। সেই অবস্থা সামলে গতবছরের সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে ভালো প্রবৃদ্ধির পথে হাঁটছে দেশের রপ্তানি খাত। খবর বিডিনিউজের
জানুয়ারি শেষে চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সব মিলিয়ে ২ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এই সাত মাসে ২ হাজার ৫৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে তার চেয়ে ১৬ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। রপ্তানির ইতিবাচক ধারা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি হিমায়িত খাদ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, রাসায়নিক পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল খাত ভালো ভূমিকা রেখেছে। তবে পিছিয়ে আছে পাট ও পাটজাত পণ্য। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪ হাজার ৫৩৭ কোটি ডলার। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে সরকার আশা করছে। এ বছর জানুয়ারি মাসে পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৪০৮ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, যা মাসের পুরো রপ্তানির ৮৪ দশমিক ২১ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের সাত মাসের আয়ের চেয়ে ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি মাসে নিট ও উভেন- দুই ধরনের পণ্য রপ্তানিই বেড়েছে। সাত মাসে ১৩২৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নিট পণ্য রপ্তানি হয়েছে, তাতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আর এক হাজার ৭১ কোটি ডলারের উভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে এই সাত মাসে, তাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াচ্ছে ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ।