জাতির উদ্দ্যেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আশাবাদী করে তুলবে জাতিকে

6

আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ধারাবাকিতায় একযুগ ও চতুর্থ দফায় সরকার গঠনের দুই বছর পুর্তি উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক জাতির উদ্দ্যেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ জাতিকে আরো অধিক আশাবাদী করে তুলেছে। এ ভাষণ দেশের উন্নয়নে এবং আগামীর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অধিকতর বৃদ্ধি পাবে বলে আমাদের ধারণা। প্রায় ৩০ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী, সাবলিল ভাষায় গত একযুগ ধরে তাঁর সরকারের উন্নয়ন কর্মকাÐসহ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবেলা ও টিকা আমদানী ও প্রয়োগসহ ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের টেকসই অগ্রযাত্রার বিবরণটি আমাদের কাছে বাস্তবসম্মতই মনে হয়েছে। তবে এ যাত্রায় বড়ধরনের চ্যালঞ্জ রয়েছে , যা প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে স্বীকার করে যেকোন বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে অভীষ্ঠ লক্ষে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেন। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ প্রত্যয় ও আশাবাদ অতিরঞ্জিত নয়, কারণ অতীতে অনেকগুলো অসম্ভব বিষয়কে সম্ভব করে তোলো এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তার সাহসী পদক্ষেপে এর প্রমাণ মিলে।
প্রধানমন্ত্রী ভাষণে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, ‘আমরা আজ অনেকদূর এগিয়েছি সত্য, আমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে। হতে পারে সে পথ মসৃণ, হতে পারে বন্ধুর। বাঙালি বীরের জাতি। পথ যত কঠিনই হোক, আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। আমরা যদি পরিশ্রম করি, সততা-দেশপ্রেম নিয়ে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে আমরা সফলকাম হবই, ইনশাআল্লাহ’। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের যে মহাসড়ক বেয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়-সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। উন্নয়নের পথে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। কিছু অসাধু মানুষ নানা কৌশলে জনগণের সম্পদ কুক্ষিগত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক আর যত শক্তিশালীই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হচেছ না এবং হবেও না। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। আইনের শাসন সমুন্নত রেখে মানুষের নাগরিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন আমরা তা করব। শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারি ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। অনেক দেশে অর্থনীতিতে ¯’বিরতা নেমে এসেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে বিভিন্ন নীতিসহায়তা এবং বিভিন্ন উদারনৈতিক আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদানের মাধ্যমে আমরা অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমরা এক লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, যা মোট জিডিপির ৪.৩ শতাংশ। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সে প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রেখেছি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় আড়াই কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আমরা নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তার আওতায় এনেছি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১২ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আর্থসামাজিক এবং অবকাঠামো খাতে বিস্ময়কর উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। দি ইকোনমিস্ট-এর ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯ম। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ইশতাহার প্রসঙ্গে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতাহারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ নির্মূল করে একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত অসা¤প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা।
২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উচ্চ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের সমৃদ্ধিশালী-মর্যাদাশীল দেশ। ২০২১ সালের আগেই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি। প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পথনকশা তৈরি করেছি। রূপকল্প ২০৪১-এর কৌশলগত দলিল হিসেবে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ আজ একটি সমীহর নাম। জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সব ধরনের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে বলেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণকরতে হবে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণ এবং যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা জাতিকে শুনিয়েছেন-তা বাস্তবায়ন হবে,তবে বেেক্ষত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ অব্যাহত রাখাসহ সুশান প্রতিষ্ঠার অন্তরায়গুলো দুরীভুত করতে হবে।