জলাবদ্ধতা নিরসনে সহযোগিতা করতে আগ্রহী নেদারল্যান্ড

43

সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হেরি ভারুইজ। গতকাল বুধবার দুপুরে মেয়রের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে তারা উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারসহ বিবিধ বিষয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে নগরীর ভৌগলিক অবস্থান, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকান্ড সম্পর্কে চসিক প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম এবং জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে চলমান কাজ সম্পর্কে ডেপুটি টিম লিডার মেজর জেড জিয়া স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে মেয়র নেদারল্যান্ড রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৬০টি দাতব্য চিকিৎসালয়, ৪টি মাতৃসদন, হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয়, হেলথ টেকনোলজি, মিডওয়াইফ ইনস্টিটিউট পরিচালনা করছে। এই নগরে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড, জাহাজ তৈরি, বৃহৎ শিল্প কারখানা এবং পোশাক শিল্প কারখানা, স্টিল মিলস স্থাপনা এবং বিশেষ শিল্পাঞ্চল স্থাপন এবং নগরকে একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ, পরিবেশ বান্ধব ও সবুজায়ন কার্যক্রম সম্পর্কে সিটি মেয়র রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
মেয়র আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নেদারল্যান্ড বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী এবং বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। এই দেশের সার্বিক উন্নয়নে নেদারল্যান্ড রাষ্ট্রদূত এর মাধ্যমে সেই দেশের সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের সহযোগিতা কামনা করেন মেয়র।
নেদারল্যান্ড রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে কথা উল্লেখ করে বলেন, সাগর, নদী ও পাহাড়, পর্বত বেষ্টিত এই শহর যে কোন অতিথিকে মুগ্ধ করে। এই শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে আমি মুগ¦ হই। তাই ঘুরে ফিরে এ শহরে বারংবার আসতে ইচ্ছা হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে লীলাভূমি এই শহরটি এখন সবুজ এবং পরিচ্ছন্ন নগরী। এর জন্য তিনি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের প্রশংসা করেন।
নেদারল্যান্ড রাষ্ট্রদূত সিটি মেয়রের কাছে বর্তমান নগরীর চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমান নগরের বড় সমস্যা।
তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে নগরীর জন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ড্রেনেজ মাস্টার প্লানসহ অপরাপর খালগুলো গভীর ও প্রশস্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কর্ণফুলী নদী ভরাট, সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি মেগাপ্রকল্প কাজ চলমান রয়েছে বলে সিটি মেয়র রাষ্ট্রদূতকে জানান।
মহানগর এলাকা, ভ‚প্রাকৃতিক অবস্থান, জনসংখ্যা নগরীর শিক্ষাকার্যক্রম, সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা, নগর উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বর্তমানে একটি মাস্টার প্লান নবায়নের কাজ চলছে। এই পরিকল্পনায় চট্টগ্রাম নগরীকে একটি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর নগরী ও বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা থাকবে বলে তিনি রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে সিটি মেয়র আরো জানান, যে বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বর্ষার মৌসুমে নগরীর নিম্নাঞ্চলসমূহ প্লাবিত হয়। এই জলবাযুর পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী। এমনকি বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম তার ব্যতিক্রম নয়। প্লাবিত হচ্ছে নগরীর নিম্নাঞ্চল। এতে নগরীর আগ্রাবাদ, একসেস রোড, হালিশহর, সিডিএ, চকবাজার, ষোলশহর, বৃহত্তর বাকলিয়া, শুলকবহরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকাসমূহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রতিদিনই এই জলাবদ্ধতা বাড়ছে। এটি বাড়তে থাকবে। এর মাঝেও আমাদেরকে লড়াই করে টিকে থাকতে হবে তিনি রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি নেদারল্যান্ড রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বলেন, আমরা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ও বন্ধু রাষ্ট্র । আমরা একে অপরের উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র। তাই বন্ধু রাষ্ট্রের সমস্যা বিশেষ করে জলাবদ্ধতা কিভাবে লাঘব করা যায়, সেই বিষয়ে নেদারল্যান্ড সরকাররের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি জানান, পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ড পৃথিবীর একটি অন্যতম দেশ। তাদের এয়ারপোর্ট সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪ ফুট নিচে এবং তারা তাদের যুগান্তকারী পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এখানে জলবায়ু পরিবর্তনের সকল ঝুঁকি সফলতার সাথে তারা মোকাবেলা করে আসছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেদারল্যান্ড সরকার সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সেই বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে সিটি মেয়র বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নেদারল্যান্ডের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের মধ্যে এই অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। তাই তিনি শীঘ্রই একটি প্রতিনিধি দল নেদারল্যান্ড সফরের কথা বলেন এবং এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন মেয়র।
এই সময় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ ,সচিব মো. আবু শাহেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজদৌল্লাহ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী কাদের নেওয়াজ, সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেম। এ সময় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। বিজ্ঞপ্তি