জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তন

9

করোনার ছোবলে আমরা দিশেহারা। পৃথিবীর মানুষজন মনে করছে করোনাই আমাদের অগ্রযাত্রার বড় বাঁধা। কিন্তু এ জায়গায় বিল গেটসের ভাবনা ব্যতিক্রম। তিনি বলছেন, করোনা সঙ্কট থেকে জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলা কঠিন। আসলে তো তাই। প্রতি বছর ৫১ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড (গ্রিন হাউজ গ্যাস) পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে জমা হয়। যা সম্পূর্ণ শূন্যে থাকা উচিত। করোনার সঙ্কট আজ নয়তো কাল কেটে যাবে, কাল নয়তো পরশু কাটবে। যথাযথ ভ্যাক্সিন প্রয়োগে কলেরার মতো এটিও সারবে। কিন্তু জলবায়ুর যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, তা সারাবে কে? করোনার জন্য খুব কম হলেও আমরা সচেতন থাকছি। তার অনুপাতে জলবায়ুর এ পরিবর্তনের জন্য কিছুই করছি না। যে কার্বন ডাই-অক্সাইড জমা হচ্ছে তা নিঃসরণের এমন কোনো যথাযথ পক্রিয়া আমরা রাখছি না। খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি, দিন কাটাচ্ছি আর নিজেকে নিয়েই ভাবছি এই আমাদের দৈনিক রুটিন। গর্দভের মতো অক্সিজেন নিচ্ছি! তার পরিবর্তে গাছ লাগাতে হবে, তা আমাদের মাথাতেই নেই। অপ্রয়োজনে পলিথিন ইউজ করছি, প্লাস্টিকের হট্টগোল লাগাচ্ছি। তা যে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে সে চিন্তা করার সময় কই আমাদের? করোনার ভয়ে আমরা কাতর, এরচেয়ে বড় ভয়, বড় সঙ্কট আমরা লালন করছি তা নিয়ে কি ভাববার সময় আসেনি? সবাই চাইলে, সবাই একটু সচেতন হলে আমি, আপনি আমরা সবাই মিলে পৃথিবীটাকে প্রাণবন্ত রাখতে পারি। সে বোধ আমাদের উদয় হোক, এই প্রত্যাশায়………..।
এম. নাজমুল হক চৌধুরী
শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।