জমবে এবার ভোটের লড়াই

30

নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে নৌকার প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা অন্যান্য দলের কেউ প্রার্থী হলে তাকেও উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এই বক্তব্যের পরপরই ভোটের মাঠে আমেজ ফিরেছে। প্রায় আসনেই আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মনোনয়নবঞ্চিত হেভিওয়েট প্রার্থীরাও। এতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহও বেড়েছে। গতকাল একদিনেই বিভিন্ন আসনে ৩২ প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। তফসিল ঘোষণার পর গত ৯ দিনে সবমিলিয়ে ৮৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নেতা।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আওয়ামী লীগের মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আওয়ামী লীগের খাদিজাতুল আনোয়ার, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আবদুস সালাম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ছৈয়দ হাফেজ আহমদ, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আওয়ামী লীগের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ সেকান্দার, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ আহমেদ রেজা, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও) আসনে আওয়ামী লীগের নোমান আল মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ ছালাম, তৃণমূল বিএনপির সন্তোষ শর্মা, বিজয় কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে মহিবুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে আব্দুস সবুর লিটন, আবুল বাশার মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে স্বতন্ত্র জিয়াউল হক সুমন, তৃণমূল বিএনপির দীপক কুমার পালিত, স্বতন্ত্র রেখা আলম চৌধুরী, এনপিপি নারায়ন রক্ষিত, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে তৃণমূল বিএনপির মকবুল আহমদ চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ সৈয়দ মোহাম্মদ হামিদ হোসেন,চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আওয়ামী লীগের মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) স্বতন্ত্র আবদুল মোতালেব, স্বতন্ত্র আমম মিনহাজুর রহমান, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মোহাম্মদ এমরানুল হক, আবদুল্লাহ কবির, এনপিপি মামুন আবছার ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর আবদুল মালেক রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলি) ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ভোটের হিসেব জমে উঠেছে। নগরীর এই দুই আসনে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এমএ লতিফ। এ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়তে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। গতকাল সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে নিজের প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন সুমন। মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে চট্টগ্রাম-১১ আসনের আওতাধীন ১০ ওয়ার্ডের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের উপস্থিতিকে চমক হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের মতে, নগর আওয়ামী লীগের একটি বলয় লতিফকে ঠেকাতেই সুমনকে মাঠে নামিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন নগর যুবলীগের সাবেক আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু। এই নেতাকে ঠেকাতে সেখানে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলম ও চসিকের প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর আব্দুস সবুর লিটন। বিএনপির মনোনয়নে মেয়র হওয়া মনজুর আলম এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে তৎপরতা শুরু করেছেন। এতদিন নীরবে রাজনীতির মাঠে সরব থাকলেও একসময়ে বিএনপি ঘরানার এই নেতা কয়েকদফা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এই প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ আছে বলে স্থানীয়রা জানান। চট্টগ্রাম-৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া নোমান আল মাহমুদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বেশ কয়েকবার এ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হওয়া আবদুচ ছালাম। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ফরম সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামার ইঙ্গিত দেয়ায় নির্বাচনী মাঠ জমে উঠেছে। প্রায় আসনেই নির্বাচন কঠিন হবে বলে ধারণা করছেন নেতাকর্মীরা।