ছড়ার মালা

96

বীর বাঙালি
নজরুল জাহান

বিশ্বে আনলো বীর বাঙালি
একুশে ফেব্রুয়ারি
স্বাধীন হয়ে ফুটতে স্বদেশ
শোকে হলো ভারি।

বাংলা ভাষার বর্ণমালা
বুলবুলি সব পাখি
মায়ের ভাষার শত্রু দেখে
উঠলো সবাই ডাকি’।

শত্রু ছিলো পাকিস্তানের
পশ্চিমা শোষক
‘উর্দূই হবে পাকিস্তানের
জিন্না সাহেব ঘোষক।

জিন্না সাহেব ভরকে গেলো
বাঙালির হাঁক শুনে
টিক্কা খানে হুকুম ছাড়ে
মারো গুণে গুণে।

রক্ত নিলো প্রাণও নিলো
কাড়তে ভাষা স্বপ্ন
মহান নেতা শেখ মুজিবুর
আনলো শুভ লগ্ন।

কৃষক
সাফায়েত আজাদ

কনকনে শীত শরীর কাঁপে
রোদ্দুর গেলো কই!
গরু নিয়ে যাচ্ছে চাষী
কাঁধে লাঙ্গল মই।

কুয়াশার ঐ চাদর ঘেরা
শিশির বিন্দু ঝরে
ভোরের বায়ু বরফ যেমন
লাগছে কী র্থথরে!

এতো কষ্টে ফসল ফলায়
যাঁরা মাঠের বুকে
তাঁদের কর্ম-সুফলটাকে
তুলছে সবাই মুখে ।

তাঁদের নিয়ে ভাবছে ক’জন
রাখছে কে বা মনে?
খাদ্য দানার দিচ্ছে যোগান
শুনছো কৃষকগণে ।

ফেব্রুয়ারি এলে
নীতুল ইয়াছমিন

ফেব্রুয়ারি এলে খোকা
সাজায় ফুলে বাগান
সুরে সুরে শুনে খোকা
মায়ের ভাষার গান।

নগ্ন পায়ে প্রভাতফেরি
ফুলের ঢালা হাতে
শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়
খোকা বাবার সাথে।

আটই ফাগুন
জাহেদুল ইসলাম

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙা
এলো আটই ফাগুন
ছেলে হারা মায়ের বুকে
জ্বললো ঘৃণার আগুন।

ঘৃণার আগুন কেন জ্বলে
তোমরা কি কেউ জানো?
মায়ের মুখের ভাষার জন্য
ছেলে দিলো প্রাণও।

সেদিন হতে বাঙলা মা যে
আজো ছেলে হারা
মায়ের বুকের মানিক এখন
নীল আকাশের তারা।

ফাগুন কেন আগুন ঝরা
তোমরা এবার বুঝলে?
মায়ের চোখে পলাশ ফুটে
পাবে তোমরা খুঁজলে।

একটা একুশ
হুমায়ুন আবিদ

একটা একুশ জানিয়ে দিলো
আমরা বীরের জাতি
একটা একুশ তাড়িয়ে দিলো
আঁধার কালো রাতি।

একটা একুশ ভাসিয়ে দিলো
রক্ত বানে নদী
একটা একুশ নাড়িয়ে দিলো
হানাদারের গদি।

একটা একুশ থামিয়ে দিলো
ষড়যন্ত্রের গতি
একটা একুশ বাড়িয়ে দিলো
যুদ্ধ জয়ের রতি।

একটা একুশ চালিয়ে দিলো
ভাইয়ের বুকে গুলি
একটা একুশ এনেই দিলো
বাংলা মায়ের বুলি।

একুশে ফেব্রুয়ারি
রাদিয়া আফরীন নাশরাহ্

শহিদ দিবস আসে প্রতি বছরই
দিনটি হলো একুশে ফেব্রুয়ারি
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
প্রাণটি দিল আমার ভাই

রক্তে রাজপথ ভেজালো যারা
ফেব্রুয়ারির ভাষা শহিদ তারা।

মায়ের ভাষায় গান
আবু সাইদ

ভিনদেশি এক দুষ্ট পাখি
ছিল বনের দখলদার
সব পাখিদের করত শাসন
ভাবতো বুঝি সকল তার।

খানা পিনা নিতো কেড়ে
লুটতো বনের সবকিছু
শাস্তি দিতো নিরীহদের
করলে কলরব কিছু।

শান্তিপ্রিয় বনের পাখি
সুরে সুরে গাইতো গান
দুষ্ট পাখি বলতো এসে
তোদের গানে নাই তো প্রাণ!

আমার ভাষায় গাইতে হবে
নিজের ভাষার গান ছেড়ে
নইলে আমি এক এক করে
নিবো তোদের প্রাণ কেড়ে।

দুষ্ট মতির ওই পাখিটা
সত্যিকারে করলো তাই
রুখতে তারে এই পাখিরা
ঐক্য সবাই গড়লো তাই।

বনের সকল পাখি মিলে
তাড়ালো সেই পাখিটায়
এখন তারা মুক্ত স্বাধীন
মায়ের ভাষায় আঃ কী গায়!