ছুটির দিনে জমলেও অন্য সময় ফাঁকা

3

আসাদুজ্জামান রিপন

চট্টগ্রামে অমর একুশে বইমেলা এখন প্রায় শেষের দিকে। তবে এবারের মেলায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো বেশ জমে উঠলেও তেমন ভিড় নেই অন্য দিনগুলোতে। যারা আসছেন তাদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘প্রিয় লেখক’ আসার খবর নিয়ে আসছেন।
মেলায় দেখা গেছে, অনেকে ঘুরাফেরা করছেন। কেই মোবাইলে ছবি তুলছেন বা আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। তবে কয়েকটি স্টলে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আবার কিছু স্টলে অলস সময় পার করছেন বিক্রয়কর্মীরা। কয়েকটি স্টলে পাঠকদের ছবি তুলতেও নিষেধ করতে দেখা গেছে।
বিক্রয়প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শেষ সময়েই নির্দিষ্ট লেখকের মূল ক্রেতারা আসেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জনপ্রিয় লেখকরা যে স্টলে আসছেন সেখানে বেশি ভিড়। অন্য স্টলগুলোতে ক্রেতা অনেক কম।
গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রথমা স্টলে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সেখানে দেখা যায়, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনিসুল হককে ঘিরে জটলা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ বইয়ে অটোগ্রাফ নিচ্ছেন। পাঠক, দর্শক ও ভক্তদের সাথে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। অন্যদিকে প্রথমার ঠিক বিপরীতে ইতিহাসের খসড়ায় ভিড় নেই।
স্টলের বিক্রয়কর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, শিশুদের বই ছাড়াও তাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই রয়েছে।সে কারণে নির্দিষ্ট কিছু পাঠক ছাড়া অন্যরা তেমন আসেন না। একই চিত্র দেখা গেছে অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনীর স্টলে। সেখানেও পাঠকের ভিড় চোখে পড়ার মতো। স্টলের সামনে পাঠক, দর্শক থেকে মিডিয়াকর্মীদের বেশ জটলা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ স্টলে এসেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে বেশ জনপ্রিয় পুলিশ অফিসার সিএমপি কোতোয়ালী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিন। উল্টো চিত্র দেখা যায় অক্ষরবৃত্তের ঠিক সামনের শিশু প্রকাশ স্টলেও।
প্রথমা প্রকাশনীর স্টলের সামনে কথা হয় মেলায় ঘুরতে আসা সুমাইয়া অনন্যার সাথে। তিনি জানান, গতকাল দ্বিতীয়বারের মত মাকে সাথে করে মেলায় এসেছেন। একুশে ফেব্রæয়ারির দিন বান্ধবীদের সাথে মেলায় এসেছিলেন। আনিসুল হক আসছে জেনে মাকে নিয়ে এসেছেন। তাঁর লেখা ‘কখনো আমার মাকে’ অটোগ্রাফসহ বইটি কিনেছেন।
অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনীর প্রকাশক আনিস সুজন বলেন, ‘প্রতিদিনই সবার থেকে বেশি বিক্রি আমাদের স্টলে হয়। ওসি মহসিনের লেখা আত্মহত্যার আত্মকথা বইয়ের দ্বিতীয় মুদ্রণও বিক্রি হয়ে গেছে। গতকাল ওনার বই প্রায় ৫০০ কপির মত বিক্রি হয়েছে। আর আমাদের স্টলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মত বই বিক্রি হয়েছে।’
প্রথমার বিক্রয় প্রতিনিধি তানবির জানান, গতকাল আনিসুল হক আসায় স্টলে ভিড় বেশি ছিল। বিক্রিও বেশ ভালো হয়েছে। তাঁর লেখা ‘মা’ উপন্যাসটি বেশি বিক্রি হয়েছে। গতকাল তাদের প্রায় আশি হাজার টাকার মত বই বিক্রি হয়েছে।
ইতিহাসের খসড়া স্টলে কথা হয় লেখক শামসুল হকের সাথে। তিনি বলেন, বরাবরের মত সৃজনশীল মননশীল বইয়ের ক্রেতার সংখ্যা কম। বর্তমান প্রজন্মের মাঝে বইবিমুখতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম মোবাইলের প্রতি আসক্ত বেশি। সৃজনশীল বইয়ের চাইতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত লেখকের বই কিনছে বেশি।
গলুই প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি জন্নাতুল ফেরদৌস সোনিয়া বলেন, ‘অনেকে হুট করে এসে রং করে ছবি তুলে ঢং করে চলে যায়। প্রায় আসে ছবি তুলতে আর এগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। সে সময় লেখক মনে করে তার বই বিক্রি হচ্ছে অথচ বই বিক্রি হচ্ছে না। সে কারণে ছবি তুলতে বারণ করেছি। বই কিনে হাজার ছবি তুলুক মানা করছি না আরো উৎসাহিত করছি।’
কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের কাছে আহবান থাকবে শুধু সফল হব, আউটসোর্সিং করব এ জাতীয় বইয়ের চাইতে বেশি করে কবিতা, উপন্যাস, গল্পের বই পড়তে। মেধায় মননে সমৃদ্ধ হতে সাহিত্য বই পড়ার বিকল্প নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশে অর্থনৈতিক সক্ষমতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থী। তবে জনপ্রিয় লেখকের চেয়ে মানসম্মত লেখকের সংখ্যা কম। তরুণ লেখকদের প্রতি জনপ্রিয়তার চেয়ে মানসম্মত বই লেখার পরামর্শ।’