চড়া দামে ইলিশ মাছ

2

 

দেশের নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত সবাই ইলিশের মৌসুম এলেই খুশি হয়ে মাছবাজারের খোঁজ নেন প্রতি বছর। ইলিশপ্রিয় মানুষেরা বর্ষার শেষের এই সময়টাতে একে অপরের সঙ্গে এ বিষয়ে নানান আলাপচারিতা করে থাকে। বাজারে ইলিশের দাম কমলে সে খবর দ্রুত ছড়িয়ে যায় তাদের মধ্যে। কেনা হয় নানান সাইজের ইলিশ। করা হয় আপ্যায়ন আত্মীয়স্বজনদের। বাড়িতে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রেখে খাওয়া হয় বহু দিন, কাছের মনুষকে উপহার দেওয়া হয়; কিন্তু এবছর এমন কোনো দৃশ্যই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। ভালো খবরের প্রধান প্রতিপাদ্য হলো ইলিশ ধরা পড়ার পরিমাণ বেশি, বাজারে মাছের আমদানি বেশি এবং হঠাৎ দাম কমে যাওয়া; কিন্তু নাহ। এসবের কোনোটাই এবারে হচ্ছে না বিশেষ কারণে।
ইলিশ ভোজনরসিকরা মহামারি করোনার ভীতি উপেক্ষা করে বাজারে গিয়ে প্রতিদিন একবার করে ঢু মারেন মাছের গলিতে। বরফের মধ্যে সাজানো-ঢেকে রাখা বড় বড় ইলিশ দেখে কিনতে ইচ্ছে করে সবাই। অনেক জায়গার, অনেক নদীর, নানা আকৃতির ইলিশ মাছে ডালি সাজানো থাকে। কেউ বলেন এটা পদ্মার ইলিশ, কেউ বলেন মেঘনার, কেউ বলেন পাথরঘাটার, কেউ বলেন চাঁদপুরের, কেউবা বলেন সাগরের ইলিশ বলে চিৎকার করে মনোযোগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে ক্রেতাদের। কিন্তু দূর থেকে অন্য উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে দোকানির দাম নিয়ে দর কষাকষি শুনে নিম্নবিত্তেরা পাশ দিয়ে হেঁটে চলে যান। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম সাইজের ইলিশের দাম হাজার টাকা কেজি এবং এক কেজি সাইজের একটি ইলিশের দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। আমাদের মর্যাদার প্রতীক জাতীয় মাছের দাম যদি এত বেশি হয় তবে সমাজের প্রতিটি শ্রেণীর মানুষ কি ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে? নিম্নবিত্তরা এভাবে নিত্য বেলা ইলিশ কেনার আশা নিয়ে বাজারে গিয়ে যাচাই করেও দাম বেশি জানতে পেরে এখন আর মাছের বাজারের গলিতে তাদের পা মাড়াতে মন চায় না।