চোরাই মোবাইলের ‘পরিচয়’ বদলের কারিগর তিনি

7

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীতে চুরি বা ছিনতাই হয়ে যাওয়া মোবাইলের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘পরিচয়’ বদলে ফেলার এক কারিগরকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার নাম মো. সরোয়ার হোসেন সুজন ওরফে শাওন (৩১)। গত বুধবার পাহাড়তলী থানাধীন মৌসুমী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবির (বন্দর-পশ্চিম) একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে আইএমইআই পরিবর্তন করা অবস্থায় ৫২টি বিভিন্ন ব্রান্ডের মোবাইল সেটসহ ওই কাজে ব্যবহৃত দুটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি জানিয়েছে, চট্টগ্রামসহ যে কোনও জায়গা থেকে চুরি বা ছিনতাই করা মোবাইলের আইএমইআই বদলে দেন পাকিস্তানি ও ইন্দোনেশিয়ান এক্সপার্ট। আর চট্টগ্রামে ঘরে বসে বসে তাদের কাছ থেকে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাত্র দুই মিনিটেই এসব মোবাইলের আইএমইআই বদলে নেন মোবাইল মেকানিক শাওন।
অভিযানে অংশ নেয়া গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রাজীব হোসেন বলেন, পাহাড়তলীর মৌসুমী আবাসিকের বাসায় বসেই ল্যাপটপের মাধ্যমে বদলে ফেলা হচ্ছিল মোবাইলের আইএমইআই নম্বর। মূলত ল্যাপটপে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ কাজটি করে থাকে শাওন। কোনও মোবাইলের আইএমইআই বদলাতে অপারগ হলে অনলাইনে পাকিস্তানি ও ইন্দোনেশিয়ান এক্সপার্টদের দিয়ে এসব আইএমইআই নম্বর পাল্টে নেন শাওন।
তিনি বলেন, দিনে ৫০-৬০টি মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করতেন শাওন। একটি মোবাইলের আইএমইআই বদলাতে তার মাত্র দুই মিনিটের প্রয়োজন হয়। পরে এসব মোবাইল অলংকার শপিং কমপ্লেক্সের নিজের দোকান ও অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করে দেয়া হয়। বিশেষ করে হাটহাজারী, আমিরাবাদ, কক্সবাজারসহ অনলাইন বাজারে এসব মোবাইল বিক্রি করা হতো।
জিজ্ঞাসাবাদে শাওন গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি আইটি বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার লেখাপড়া করেছেন। আগে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ভিডিও দেখতে দেখতে বিদেশি এক্সপার্টদের সাথে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে আইএমইআই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আয়ত্তে এনে সাড়ে তিনমাস ধরে নিজের বাসায় বসে কাজ করেন। আইএমইআই বদলের জন্য প্রায় ৫০ টাকার বিনিময়ে দুটি সফটওয়্যার ক্রয় করে নিজের ল্যাপটপ ইন্সটল্ড করেছেন। ওই সফটওয়্যার ব্যবহার করে মাত্র দুই মিনিটেই আইএমইআই নম্বর খুব সহজে বদলে ফেলেন। একশ্রেণির বিক্রেতা চোর, ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের কাছ থেকে কেনা চোরাই মোবাইল নিয়ে আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য শাওনের কাছে আসতেন। এসব কাজের জন্য তাদের কাছ থেকে সেটভেদে এক হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিতেন তিনি। আবার চোর, ছিনতাইকারী এবং পকেটমারদের কাছ থেকে নিজেও কমদামে দামি মোবাইল কিনে নিতেন শাওন।
উপ-পরিদর্শক রাজীব হোসেন বলেন, চোরাই কিংবা ছিনিয়ে নেয়ার পর মোবাইলের আইএমইআই বদলে ফেলার কারণে ভুক্তভোগী থানায় জিডি হলেও এসব মোবাইল উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। কারণ একটি মোবাইল খুঁজে পেতে মূলত আইএমইআই দরকার হয়। কিন্তু সেটাই যখন স্থায়ীভাবে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে তখন আর মোবাইলটিকে খুঁজে পাওয়া যায় না। শহরজুড়ে চোরাই মোবাইল চক্রের মূল ভরসা হয়ে উঠেছিলেন শাওন। তার বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা হয়েছে।