চীনের নতুন পদক্ষেপ হংকং-এর স্বায়ত্তশাসনের ওপর আঘাত : যুক্তরাষ্ট্র

7

হংকং-এর নির্বাচন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চীনের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একে হংকং-এর স্বায়ত্তশাসনের ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছে তারা। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কথিত ‘দেশপ্রেমিক’রা যেন হংকং এর শাসনক্ষমতায় থাকতে পারে তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে চীনের শীর্ষ আইনপ্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে ঘোষণা দেওয়া হয়, হংকং-এর নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে। শুক্রবার চীনের এনপিসির ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াং চেন দাবি করেন, হংকংয়ের ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে দেখা গেছে যে সেখানে বিদ্যমান নির্বাচন ব্যবস্থায় ফাঁক ফোকর রয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় থাকা ঝুঁকি সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। যাতে করে কেবলমাত্র ‘দেশপ্রেমিকরাই’ অঞ্চলটির শাসন ক্ষমতায় আসতে পারে।
এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, ‘চীনের এই প্রস্তাবিত আইন হংকং-এর স্বাধীনতা,স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত। একইসঙ্গে দেশটির এই পদক্ষেপ হংকং-এর মৌলিক আইনেরও পরিপন্থী।’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে মৌলিক আইন অনুযায়ী হংকং-এর শাসনভার পরিচালনা করতে চীনের প্রতি আহবান জানান তিনি। প্রাইস বলেন,‘যুক্তরাষ্ট্র হংকং-এর মানুষের পাশে আছে। তারা কেবল তাদের অধিকারটাই চাচ্ছে,যা তাদের প্রাপ্য।’ ১৫০ বছর ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকং-কে চীনের কাছে ফেরত দেয় যুক্তরাজ্য। তখন থেকে অঞ্চলটি ‘এক দেশ, দুই নীতি’র আওতায় স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা ভোগ করে আসছে। বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হংকংকে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে চীন। তবে গত বছর জুনে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের জন্য নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রবর্তন করে বেইজিং।
এই আইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চীনের হাতে তুলে দিতে পারবে হংকং কর্তৃপক্ষ। সমালোচকেরা বলছেন, এই আইনের কারণে অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থী কর্মীদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়ার সুযোগ পাবে চীন।