চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছে ২৩ বেসরকারি হাসপাতাল

50

ফারুক আবদুল্লাহ

করোনা মহামারির শুরুর দিকে চট্টগ্রামে কেবলমাত্র পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসার সাথে যুক্ত ছিল। এখন করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ায় আগের পাঁচটিসহ মোট ২৩ বেসরকারি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছে। শয্যা সংকট কাটিয়ে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে এসব হাসপাতালে যুক্ত হয়েছে ৮০ শতাংশ চিকিৎসা সেবা। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ আইসিইউ এবং ৫০ শতাংশ সাধারণ শয্যা রয়েছে। বর্তমানে মোট করোনা রোগীর মধ্যে ৮০ শতাংশ রোগী এসব বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।
বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে রোগীদের সেবায় ভূমিকা রেখে আসছে নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত পার্কভিউ হাসপাতাল। এ হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবায় দুটি ফ্লোরে ৫২টি কেবিনে সেবার ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া আইসিইউ ১২টি বেড, এইচডিইউ এবং হাই ফ্লো অক্সিজেন ব্যবস্থাও ছিল পর্যাপ্ত। কিন্তু ঈদুল আজহার আগে থেকে হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় করোনা রোগীদের জন্য বিশেষায়িত আরও একটি ফ্লোর চালু করেছে হাসপাতালটি। বিশেষায়িত ওই ফ্লোরে করোনা রোগীদের সেবায় নতুন কেবিন রয়েছে ২৬টি।
গত তিনদিন ধরে রোগীর চাপ অনেক বেড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জনের বেশি রোগী ভর্তির জন্য যোগাযোগ করছেন। একই সংখ্যক রোগী আইসিইউর জন্য যোগাযোগ করছেন। আগের তুলনায় রোগীর চাপ দ্রæত বাড়ছে। ফলে আইসিইউর জন্য অপেক্ষারত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ১২টি আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি থাকার পরও দিনে ৩-৪ জন রোগী আইসিইউর জন্য অপেক্ষায় থাকেন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসারত রোগীর স্বজনরাও আইসিইউর জন্য যোগাযোগ করছেন। সব মিলিয়ে দৈনিক ১০-১৫ জনের বেশি রোগীর স্বজন আইসিইউ শয্যার জন্য যোগাযোগ করছেন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৮৪টি কেবিন ও ১২টি আইসিইউতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা চালু রয়েছে।
একইভাবে বেসরকারি পর্যায়ের সবচেয়ে বেশি রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে নগরীর আগ্রাবাদের চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে। যেখানে সাধারণ বেডের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আইসিইউসহ বেড রয়েছে। এ হাসপাতালে এইচডিইউসহ ৩২টি আইসিইউ বেডের মধ্যে করোনা রোগীদের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। করোনার শুরুর দিকে ১৬২টি সাধারণ বেডে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে রোগীদের চাপ সামাল দিতে আরও ১০টি বেড বাড়িয়ে ১৭২টি করা হয়।
এছাড়া করোনার শুরু থেকে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৪০০ বেডের মধ্যে ৬৮ বেডে করোনা রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড ইউনিট চালু করে। ক্রমান্বয়ে গত ২৭ জুলাই এ হাসপাতালের সংযোজন করে ৯০টি করোনা ডেডিকেটেড বেড, ৬টি করোনা স্পেশালাইজড এইচডিইউ ও ভেন্টিলেশন সুবিধাসহ ২টি আইসিইউ বেড।
সর্বশেষ করোনা রোগীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ও রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে গতকাল শনিবার এ হাসপাতালে আরও ৩০টি বেড যুক্ত করেছে। বর্তমানে ১২০টি বেডে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালটি।
এদিকে করোনা রোগীর সেবায় পূর্ণাঙ্গ ডেডিকেটেড আইসিইউ ইউনিট চালু করেছেন এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। গত কয়েক দিন ধরে রোগীর চাপ অনেক বেড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন রোগীর স্বজন ভর্তির জন্য যোগাযোগ করছে। সমান সংখ্যক রোগীর স্বজন যোগাযোগ করছেন আইসিইউর জন্য। এমন পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার ১৬ বেডের আইসিইউ চালু করেছে হাসপাতালটি।
তাছাড়া গত বছর ৭০টি বেডে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করেছে বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতাল। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ায় ৩০টি বেড বাড়িয়ে মোট ১০০টি বেডে করোনা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বেসরকারি হাসপাতাল সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ম্যাক্স হাসপাতালের এমডি ডা. লিয়াকত আলী বলেন, করোনা শুরুর দিকে চট্টগ্রামের ৫টি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে অনেকগুলো বেসরকারি হাসপাতাল করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। করোনা শুরু দিকের তুলনায় এখন ৮০ শতাংশ চিকিৎসা সেবা বাড়িয়েছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো। এর মধ্যে আইসিইউ ৩০ শতাংশ এবং সাধারণ বেড ৫০ শতাংশ রয়েছে। আর বর্তমানে মোট করোনা রোগীর ৮০ শতাংশই বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। গত বছরে যা ছিল ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) ও জেলা করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির মুখপাত্র মো. মিজানুর রহমান বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেছি। শনিবারও জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনসহ একটি টিম সাউদার্ন মেডিক্যালে পরিদর্শন করেন। এ হাসপাতালে ২টি আইসিইউ, ৪টি এইচডিইউ এবং ২০টি সাধারণ বেডে রোগীদের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একইসাথে মেরিন সিটি মেডিক্যালও করোনা সেবায় এগিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রামে মোট ২৩টি বেসরকারি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে- মেডিক্যাল সেন্টার, রয়েল হসপিটাল, এশিয়ান স্পোশলাইজড হসপিটাল, সার্জিস্কোপ হাসপাতাল, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল, পার্কভিউ, ম্যাক্স হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল, সিএসসিআর, ন্যাশনাল হসপিটাল, আল মানাহিল নার্চার জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, ইউএসটিসি, ডেল্টা হাসপাতাল, মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিজিসি ট্রাস্ট, শেভরন, এভারকেয়ার হাসপাতাল, সিএমপি বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল ও বিজিএমইএ কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল।