চিকিৎসার নামে প্রতারণা

27

 

ফটিকছড়ির নাজিরহাটে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবার নামে চলছে প্রতারণা। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তালিকা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগীদের জিম্মি করে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নে গড়ে উঠা বাজারে কিংবা এলাকার আশপাশে বেশি জনবসতি রয়েছে। এ এলাকার মানুষ সুবিধার জন্য রোগাক্রান্ত হলে আশপাশের হাসপাতাল বা ক্লিনিকেই যায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশি লাভের আশায় কিছু অসাধু মালিক রোগীদের জিম্মি করে কামিয়ে নিচ্ছে লাখ টাকা। এ উপজেলায় ১৫টির বেশি প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এসবে অনেকটাতেই নেই কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। তাছাড়া অশিক্ষিত ও অনভিজ্ঞ নার্স দিয়ে চলছে এসব হাসপাতাল। অনেকে আবার নামীদামি হাসপাতালের নামেই দুই-একটি শব্দ পরিবর্তন করে চুটিয়ে ব্যবসা করছে। অনেক মানুষ রয়েছেন যারা এসব নামীদামি হাসপাতালের শাখা ভেবে এ নি¤œমানের হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যান চিকিৎসার জন্য। তন্মধ্যে একটি নাজিরহাট বাজারে গড়ে উঠা আলিফ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সম্প্রতি গড়ে উঠা এ হাসপাতালে নেই কোনো আধুনিক চিকিৎসা। এখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে সুচিকিৎসার নামে লিফলেট বিলি ও দেয়ালে পোস্টার সাঁটিয়ে দালালের মাধ্যমে রোগী বাগিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একবার কাউকে ভর্তি করাতে পারলেই হলো। তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় হাজার হাজার টাকা। আলিফ হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন জানান, ডেলিভারি রোগীর চিকিৎসা শেষে ৩০ হাজার টাকা বিল করা হয়। শিশুর জন্য বিল করা হয় সাড়ে ৪ হাজার টাকা। গরীব রোগী হওয়ায় কোন উপায় না দেখে টাকা ধার করে এ বিল পরিশোধ করে ছাড়পত্র নেন। এভাবে শত গ্রাহকের কাছ থেকে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাবীল চৌধুরী বলেন, এখানে ১৫টির মতো হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত জনবল ও লজেস্টিক সাপোর্ট না থাকায় সময় মতো সবগুলো পরিদর্শন করা সম্ভব হয় না। তারপরেও তারা নিয়মিত পরিদর্শনের চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিকে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান ও রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম না থাকায় বিপাকে পড়ছেন রোগীরা। পরীক্ষার নামে হাজার টাকা হাতিয়ে নিলেও সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ায় প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন রোগীরা। নাবিল চৌধুরী আরো বলেন, বিভিন্ন সময়ে এসবের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। যেসবের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।