চার ফিটের গলিতেই ৬ তলা অনুমোদনহীন ভবন

56

এম এ হোসাইন

পশ্চিম বাকলিয়া ডিসি রোডের আব্দুল লতিফ বাই লেন। চার ফিট রাস্তার চিপাগলির সাথেই গড়ে উঠেছে ৬তলার একটি ভবন। দিন-রাতে সমান তালে চলছে ভবনটির কাজ। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কোনো অনুমতি ছাড়াই গড়ে উঠেছে এই অট্টালিকা। ভবনের চারপাশে কোথাও ছাড়া হয়নি জায়গা। যার কারণে পাশের বাসিন্দাদের ঘরে আলো-বাতাস প্রবেশও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে অনুমোদনহীন ভবন অপসারণের নোটিশ দিয়ে দায় সেরেছে সিডিএ।
জানা যায়, ভবন নির্মাণের আগে সিডিএ থেকে ভবনের নকশা অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। তারপরেই নীতিমালার আলোকে ধারাবাহিকভাবে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়। ডিসি রোডের আবদুল লতিফ বাইলেনের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ নীতিমালার তোয়াক্কাই করেননি। অনুমোদন না নিয়েই ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন তিনি। ইতোমধ্যে ভবনের ৬তলা পর্যন্ত ছাদ দেওয়া হয়েছে। চলছে দেওয়ালের গাথুনি ও প্লাস্টারের কাজ। অনুমোদনবিহীন ভবনটিতে কোন পাশেই জায়গা ছাড়া হয়নি। পার্শ¦বর্তী ভবনের সাথে লাগোয়া ভবন করার কারণে প্রতিবেশিদের ঘরে আলোবাতাস চলাচলের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিবেশিরা অভিযোগ দেয় সিডিএতে। সিডিএ তদন্ত শেষে কাজ বন্ধ রাখাও ভবন অপসারণ করতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু এ নির্দেশের পরও কাজ অব্যাহত রেখেছেন আবুল কালাম আজাদ। অন্যদিকে ভবনটির কারণে ঝুঁকিতে থাকা প্রতিবেশিরা প্রতিকার চেয়ে ঘুরছেন সিডিএ’র দুয়ারে।
সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার এজিএম সেলিম বলেন, ‘ভবনটিকে আমরা নোটিশ করেছি। পুলিশকেও আমরা জানিয়েছি। এখন যদি তারা কাজ চালিয়ে যায় তাহলে ধারাবাহিকভাবে চ‚ড়ান্ত নোটিশ করবো। তারপর আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
অবৈধ ভবনটির বিষয়ে গত বছরের ২৯ নভেম্বর সিডিএতে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা এসএম জিয়াউল হেলাল। অভিযোগটির তদন্তে নামে সিডিএ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায় তদারক সংস্থা। তারপর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি কারণ দর্শানো হয় আবুল কালাম আজাদকে। সর্বশেষ ৮ নভেম্বর অননুমোদিতভাবে নির্মিত ইমারতটি অপসারণ করার জন্য নির্দিশ দেয় সিডিএ। অন্যথায় আইনের ৬(২) ধারা অনুযায়ী ইমারতটি উচ্ছেদ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী এসএম জিয়াউল হেলাল বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ আমাদের কাছ থেকে এক গÐা জায়গা কিনেন। সিডিএ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি না নিয়ে তিনি পুরো জায়গাটাতে ভবন তৈরি করছেন। যার কারণে আমাদের ঘরে আলোবাতাসের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। ভবনটির কারণে আমরা আশপাশের সবাই ঝুঁকিতে আছি। সিডিএ থেকে ভবনটি অপসারণ করতে নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু সে নোটিশের পাত্তা না দিয়ে তিনি ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন।’
এ দিকে সিডিএ থেকে ভবনটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়ার পর আদালতের ধারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভবনটির মালিক আবুল কালাম আজাদ। আদালত ৬ মাসের স্থগিতাদেশ জারি করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। আবার আদালতের স্থগিতাদেশ থাকলে ভবনের কাজও বন্ধ রাখার কথা। কিন্তু ভবনটির কাজ চলমান রেখেছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভবনের মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি যার কাছ থেকে জায়গা কিনেছি তাদের চারতলা ভবনের অনুমোদন আছে। জায়গাটি কিনে আমি সিডিএতে ছয়তলা করার জন্য আবেদন করি। ছয়তলার অনুমোদন এখনো পাইনি, আমরা কাজটা করে ফেলেছি। সিডিএ স্থাপনা অপসারণ করতে চিঠি দিয়েছে। আমরা হাইকোর্টে সেটার স্থগিতাদেশ নিয়েছি। কোর্ট ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।’