চারদিকে চলছে সাইলেন্ট মহামারী

3

এম এ হাশেম

প্রতিটি ঘর এখন ক্যান্সারের বাসা… কিডনি, লিভার ও হৃদপিন্ড অকেজো হচ্ছে লাখে লাখে!! অসংক্রামক রোগে বাংলাদেশে এক বছরে মারা যাচ্ছে প্রায় ৮ লাখ মানুষ!! হাঁ, ঠিক শুনেছেন আট লাখ। কেন? ভেজাল খাদ্য, বিষযুক্ত খাদ্য। এখন সিদ্ধান্ত আপনার ——”কষ্টের টাকায় খাদ্যের নামে বিষ তুলে দিবেন কিনা সন্তানের মুখে”!
অফ সিজনের ফল খাওয়া বন্ধ করুন। বেশি চকচকা যেমন সাদা চিনি, সাদা চাল, সাদা আটা পরিহার করুন। কমার্শিয়াল চাষী যারা কীটনাশক প্রয়োগের নির্দেশনা অনুসরণ করেনা তাদের ফসল পরিহার করুন।
চাষের মাছে হেভি মেটালের ভয় থাকে তাই হাওড়, বাওড় খাল, বিল ও লেকের মাছ এবং সমুদ্রের মাছের অভ্যাস করুন।
দেশি ফল খান। ছাদে, বেলকনিতে, গ্রামের বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে ছোট ছোট শাক সবজির বাগান করুন। এটা বাঁচা মরার প্রশ্ন, নিজের এবং পরিবারের। সাইলেন্ট মহামারী চলছে চারদিকে।
মিষ্টি কুমড়াও নাকি কাপড়ের রঙে ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে সবুজ ও কচি দেখানোর জন্য। কলায় পারম্যাঙগানেট, আনারসে গ্রোথ হরমোন, ফার্মে কীটনাশক, ব্রয়লার ও ডেইরিতে এন্টিবায়োটিক, মাছে ফরমালিন, মুড়িতে ইউরিয়া, চিনিতে হাইড্রোজ। চালে, তেলে, মরিচে, মশলায় শুধু ভেজাল আর ভেজাল। পরিণাম দুরারোগ্য ব্যাধি এবং মৃত্যু।
মনে রাখবেন; নষ্ট মবিল যেমন একদিনে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল করেনা তেমনি ভেজাল খাদ্যও একদিনে লিভার, কিডনি বিকল করে দিবে না। রাতারাতি নয়। হয়তো কয়েক বছর লাগবে। একসময় নষ্ট হবেই। প্রতিটি ঘর এখন ক্যান্সারের বাসা। এমন কোন ঘর নাই যেখানে ক্যান্সার নাই, লিভার ও কিডনি রোগী নাই। বর্তমানে বাংলাদেশে শুধু লিভার রোগীর সংখ্যা এক কোটি। ভাবা যায়! কিডনি হারাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। সব কিছুর মূল কারণ ভেজাল খাদ্য। এখন রোজার মাস। সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। অসময়ের ফলমূল গুলো বিপজ্জনক। কৃত্রিমভাবে হরমোন প্রয়োগ করে বড় করা এবং রাসায়নিক উপাদান দিয়ে পাকানো হয় এইসব ফলমূল ও সবজি।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগীর পরীক্ষা করা হয় সেখানে বেশিরভাগ রোগীর কমন পরীক্ষা থাকে লিভার, কিডনি, হার্ট এইসবের। একসময় ক্যান্সার ছিলো রূপকথার গল্পের রোগ। বাংলা সিনেমায় নায়কের কিংবা ভিলেনের শরীরে মাঝেমধ্যে এই রোগ ধরা পড়তো। এখন রাস্তার ফকির-ভিক্ষুক, চাকর- মনিব কেউ বাদ যাচ্ছে না। ক্যান্সার এখন আলু পটলের মতো হয়ে গেছে। বেড়ে চলছে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম। বেড়ে যাচ্ছে বন্ধ্যত্ব, আলজেইমার, স্মৃতিলোপ পাওয়া এবং মানসিক বিকারগ্রস্ত রোগীর সংখ্যা। এভাবে চলতে থাকলে সেই দিন বোধহয় আর বেশি দূরে নয়, যখন পুরো দেশ ভরে যাবে অসুস্থ মানুষে মানুষে। আমরা কখন সতর্ক হবো? আমরা কী আমাদের সন্তানদের মুখে নিরাপদ খাদ্য তুলে দিতে পারবো না?? নাকি স্লো পয়জনিং করে সবাই একসাথে ধ্বংসের দিকে ছুটে যাব ?

লেখক: প্রভাষক ও কলামিস্ট