চাকুরি পরীক্ষা বিভাগ ভিত্তিক হোক

14

এম.আবুল ফয়েজ মামুন

বেকারত্ব একটি সামাজিক ব্যাধি। সাধারণ অর্থে যার কোনো কাজ নেই সেই বেকার। বাংলাদেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে হারে কর্মসংস্থান না হওয়ায় ক্রমান্বয়ে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ বেকাররাই শিক্ষিত তরুণ। আজও বাংলাদেশের সব অভূতপূর্ব সৃস্টি গুলোর জন্মই দেন তরুণরা।মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সমাজ ও দেশ গঠনেও তরুণদের ছিল ইতিবাচক ভূমিকা। কিন্তু বর্তমানে তরুণ সমাজের বড় অংশই বেকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আঞ্চলিক কর্মসংস্থান নিয়ে এক প্রতিবেদনেও এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব হার সবচেয়ে বেশি পাকিস্তান ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। বাংলাদেশে এ হার ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এ অঞ্চলের ২৮ টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। একজন শিক্ষিত বেকার গ্রেজুয়েশন শেষ করার পর ঢাকা গিয়ে মাসে কয়েকটা চাকুরির পরীক্ষা দিয়ে আসতে হয়।প্রতিবারই কমপক্ষে দুই-আড়ায় হাজার টাকা খরচ হয়। যেটা একজন বেকারের পক্ষে অসম্ভব। সেক্ষেত্রে চাকুরি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে নিলে খরচ অনেকটা কম হয়।আবার অনেক সংস্থা চাকুরি পরীক্ষা গুলো বিভাগীয় শহরে নিলে প্রশ্ন ফাঁস হয় এমন প্রশ্নও ছুড়ে দেয়।কিন্তু বিসিএসের মতো পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে হয় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় না। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাও বিভাগীয় শহরে নেওয়া হলো, কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। চাকুরি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে নিলে চাকুরিপ্রার্থীরা হয়রানি, অযথা সময় অপচয় ও অর্থ ব্যয় হতে রক্ষা পাবে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে সকল চাকুরি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।