চাঁন্দখালী খাল দখলের প্রতিযোগিতা !

18

চাঁন্দখালী খাল লবণ ব্যবসায়ীদের ব্যবসার প্রধান ট্রানজিন্ট পয়েন্ট। কিন্তু সেই খালটি দখলের প্রতিযোগিতা চলছে লবণ ব্যবসায়ীদের মাঝেই। একজন ব্যবসায়ী খালের পূর্ব তীরে দখল করলে তার সাথে প্রতিযোগিতা করে পশ্চিম তীরে দখল করে অন্য ব্যবসায়ী। চাঁন্দখালী ব্রিজের উত্তরে এক ব্যবসায়ী দখল করলে ব্রিজের দক্ষিণে দখল করে অন্য ব্যবসায়ী। অবৈধ দখল, দূষণ, নাব্যতা ও প্রশস্থতা কমে যাওয়ার কারণে এ খালটি এখন মরা খালে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ খাল না থাকলে এলাকায় লবণ শিল্প নগরী গড়ে উঠতো না। কিন্তু খালের প্রসস্থতা কমে যাওয়ায় ধংস হতে চলেছে পটিয়ার লবণ শিল্প। জানা যায়, অনেক আগেই এ খালের দক্ষিণাংশে প্রায় ৩ কিলোমিটার শ্রিমাই খালের পলিতে ভরাট হয়ে বরকল খাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। খালের নাব্যতা সংকটে লবণবাহী বোট যাতায়াতে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পটিয়া পৌরসভাসহ পূর্বাঞ্চলের পানি নিষ্কাশনে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। এ অবস্থায় খালটি উদ্ধার করা না হলে পটিয়ার লবণ শিল্প নগরী বিলুপ্ত হওয়ার পাশাপাশি পটিয়া পৌর এলাকাসহ বিশাল একটি অংশে জলাবদ্ধতা চরম আকারে পৌঁছাবে। সূত্রে আরো জানা যায়, এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা চাঁনখালী খাল ভরাট ও খালের দুইপাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছে। এ বিষয়ে পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও খাল দখল ও ভরাট বন্ধ হচ্ছে না। চাঁনখালী খালের দুইপাড় দখল করে লবণ কারখানা, দোকান, বসতঘর গড়ে তোলা হচ্ছে। এদিকে, ইন্দ্রপোলের সঙ্গে কিরিঞ্জাখালের যে সংযোগ রয়েছে তা দীর্ঘ দুই কিলোমিটার খাল সম্পূর্ণ এখন ভরাট। যার কারণে এ খাল দিয়ে নৌ চলাচল এখন বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র ইন্দ্রপোল থেকে চাঁনখালী খালের উত্তর দিকে বোয়ালখালী খাল হয়ে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। এখানকার লবণ মিল মালিকরা কক্সবাজার, চকরিয়া, মগনামা, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ ও রাজাখালী এলাকা থেকে ইঞ্জিন চালিত বোটদ্বারা নৌপথে পটিয়া ইন্দ্রপোল শিল্প নগরীতে কাঁচা লবণ নিয়ে আসে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে নৌ পথের চেয়ে সড়ক পথে লবণ আমদানির প্রসার বেশি ঘটেছে। এ কারণে মহাসড়ক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লবণ মিল মালিকরা জানান, চাঁনখালী ও কিরিঞ্জা খালের মুখ সম্পূর্ণ ভরাট থাকার কারণে এ পথে নৌ চলাচল করা যাচ্ছে না। তাছাড়া জোয়ার-ভাটার এ খালের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু অংশে ভরাট, অবৈধ দখল ও খালের প্রায় অংশ ময়লা-আবর্জনা ফেলানোর কারণে চাঁনখালী খালের নাব্যতা হারাতে চলেছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে শিল্প মালিকরা দাবি জানিয়েছেন। সূত্রে জানা আরো যায়, বৃটিশ আমলে ইন্দ্রপোল লবণ শিল্পনগরী গড়ে উঠে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে এ শিল্প নগরী আরো প্রশস্ত হয়। কাঁচা লবণ সংগ্রহের মাধ্যমে ক্রাসিং ও বয়েল্ড করার পর তা দেশ-বিদেশে বাজারজাত করা হয়। আগে এখানে শতাধিক মিল কারখানা থাকলেও বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ৫০টিতে নেমে এসেছে। খালের পাড়ে যেসব শিল্প মালিকরা রয়েছে তারা প্রতিদিন খালে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলে জোয়ার-ভাটার চাঁনখালী খাল ভরাট ও দূষণ করছে। পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতির পক্ষ থেকে খালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তারা জানান, অবৈধ দখল ও খাল ভরাট হওয়ার কারণে কক্সবাজার ও বাঁশখালী থেকে কাঁচা লবণবাহী বোট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। অথচ চাষী পর্যায় থেকে লবণ সংগ্রহ করে নৌপথে পটিয়ার ইন্দ্রপোল কারখানায় আনা হয়। তাছাড়া পটিয়া পৌরসভা, হাইদগাঁও, শ্রীমাই খালের পানিসহ পটিয়ার পূর্বাঞ্চলের ড্রেন ও বৃষ্টির পানি চাঁনখালী খাল হয়ে প্রবাহিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ খালের বিশেষ বিশেষ অংশে ভরাট করে ফেলায় আগামী বর্ষা মওসুমে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী খালে ময়লা-আবর্জনা ও পাথর ফেলে খাল ভরাট করে যাচ্ছে। দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা কার্যকর হচ্ছে না।