চসিক নির্বাচন উন্নয়নের ধারা যেন বজায় থাকে

26

কামরুল হাসান বাদল

এই লেখা অনেকের হাতে পৌঁছানোর আগেই শুরু হয়ে যাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠতম নির্বাচন। গত ২৯ মার্চ এই নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস প্রকোপের কারণে নির্বাচনের একসপ্তাহ আগে ভোট স্থগিত করা হয়। নির্ধারিত সময়ে ভোট করতে না পারায় আগস্ট এর শুরুতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা খোরশেদ আলম সুজন দায়িত্ব পালন করলেও ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
১৮৬৪ সালে চট্টগ্রাম শহরের উপযোগিতা অনুভব করে এর উন্নতির জন্য ব্রিটিশ সরকার চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করে এর প্রশাসকের দায়িত্ব দেন তখনকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট জে ডি ওয়ার্ডকে। শুরুতে মিউনিসিপ্যালিটির প্রধান দায়িত্ব ছিল পাবলিক ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করা। সে সময় চট্টগ্রামে ওয়ার্ড ছিল চারটি। লোকসংখ্যা ছিল ২৯ হাজার । বর্তমানে ১৬০ দশমিক ৯৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে ভোটার আছেন ২৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন।
১৮৬৪ সাল থেকে ১৯১৫ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটির কার্যক্রম পরিচালিত হতো প্রশাসকের মাধ্যমে। ১৯১৬ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেছেন ইংরেজরা। সে বছর প্রথম চেয়ারম্যান হন একজন বাঙালি। তিনি খান বাহাদুর আমান আলী। ১৯১৯ সালে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন খান বাহাদুর আবদুস সাত্তার। এরপর একে একে নুর আহম্মদ, রফিকুদ্দিন আহমদ সিদ্দিকী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পাকিস্তান আমলে ১৯৫৮ সালে আবার শুরু হয় প্রশাসক নিয়োগ। স্বাধীনতার পর মিউনিসিপ্যালিটির প্রশাসক নিযুক্ত হন মোহাম্মদ হোসাইন।
১৯৭৩ সালে আবার সরাসরি ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ফজল করিম। ফজল করিম টানা ১০ বছর ১৯৮২ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালেই চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি চট্টগ্রাম পৌর করপোরেশনে রূপান্তরিত হয়। তখন থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত নবগঠিত পৌর করপোরেশন সরকার নিয়োজিত প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে চলত। ১৯৮৯ সালে পৌর করপোরেশনটি সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত হয়। এরপর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সাল থেকে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ মনজুর আলম, আ জ ম নাছির উদ্দীন।
যেসব ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যু হয়েছে, সেখানে নতুন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৬, সাধারণ ওয়ার্ড ৩০, ৩৭ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। যাঁরা ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের নতুন করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে না। এরমধ্যে তারেক সোলায়মান সেলিমের মৃত্যুর কারণে আলকরন ওয়ার্ডেও নতুন করে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
বিধি অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা এবং ভোটের দিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ সমন্বিতভাবে ৩০ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি কোনো জনসভা আহবান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে বা তাতে অংশ নিতে পারবেন না।
ওই সময় কোনো আক্রমণাত্মক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ করতে পারবেন না। ভোটার বা নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত বা দায়িত্বরত কোনো ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। কোনো অস্ত্র বা শক্তি প্রদর্শন বা ব্যবহার করতে পারবেন না। কেউ এ আইন ভঙ্গ করলে ন্যূনতম ছয় মাস ও অনধিক সাত বছরের কারাদÐে দÐিত হবেন।
তবে নির্বাচনকে ঘিরে সংঘটিত তিন হত্যাকান্ড ও কয়েকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নগরবাসীর মনে।
এদিকে, নগর জুড়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে নগর পুলিশের ৬ হাজার ৭৭৩ সদস্যসহ মোতায়েন হচ্ছে আট হাজার পুলিশ। প্রতি কেন্দ্রে অস্ত্রধারীসহ ছয়জন করে পুলিশ সদস্য ও ১২ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
এর বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে অস্ত্রধারীসহ চার জন পুলিশ ও ১২ জন করে আনসার সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া কেন্দ্রের বাইরে টহল পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশ ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তৎপর থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকবে নগর পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটের বোম ডিসপোজাল ইউনিট, কাউন্টার টেররিজম ও সোয়াট সদস্যরা।
গত রোববার চট্টগ্রামে গিয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা। সভা শেষে নূরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, “বিজিবি, আনসার, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার ১৬ জনের বক্তব্য আমরা শুনেছি। নির্বাচনী পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে তারা সবাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। প্রত্যেকে আশাবাদী ২৭ জানুয়ারির চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে। তিনি বলেন, “আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, বিভিন্ন পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যে নিয়োগ-মোতায়েন সেটা সঠিকভাবে হয়েছে। আশা করি, নির্বাচন ভালো হবে।”
৩৭টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে রেজাউল করিম চৌধুরী নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নালা-খাল-নদী থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ মোট ৩৭টি প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনী ইশতেহারে ‘রূপসী চট্টগ্রাম আমার আপনার অহংকার, অঙ্গীকার-সবার যোগে সাজবে নগর’ স্লোগানে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। ঘন সবুজের দেয়াল ঘেরা পাহাড়-নদী-হ্রদ ঝিলের সমন্বয়ে প্রকৃতি নিজের হাতে সাজিয়েছে চট্টগ্রামে বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক বন্দর চট্টগ্রাম। দক্ষিণ এশিয়ার প্রবেশদ্বার এই বন্দর। জাতীয় আমদানী-রফতানির ৮৫ শতাংশ চট্টগ্রাম দিয়ে পরিচালিত হয়। স্বাভাবিক কারণে চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১২ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক বন্দরে পরিণত হয়েছে। তাই চট্টগ্রাম অনেক দূর এগিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের ভূমিবেষ্টিত সেভেন সিস্টার, চিনের কুনমিং শহর, নেপাল ও ভূটানের আমদানি-রফতানির ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার হবে চট্টগ্রাম। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম পর্যটন তীর্থ হিসেবে গড়ে উঠবে বৃহত্তর চট্টগ্রাম।
অন্যদিকে নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর, শিক্ষাবান্ধব ও নান্দনিক পর্যটন নগরী গড়াসহ ৯টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। নগরীর জামালখান এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে শনিবার এই ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।
তার অন্য প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে- গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে রাখা ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্ন নগরী, নিরাপদ চট্টগ্রাম, সাম্য-সম্প্রীতির নগরী এবং তথ্যপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ চট্টগ্রাম গড়া। ৯টি মূল প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে আরও অনেক গুচ্ছ প্রতিশ্রুতি। কিভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে ইশতেহারে তার দিকনির্দেশনাও রয়েছে। ইশতেহারের মূল স্লোগান হলো- ‘চলো সবাই বাঁধো জোট, এবার দেবো আমার ভোট’ এবং ‘নগর পিতা নয়, নগর সেবক হতে চাই।’
জাতীয় রাজনীতির মতো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। ২৭ জানুয়ারি নগরবাসী তাদের মেয়র ও এলাকার কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য। কাজেই নাগরিকরা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, তাদের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশের মানুষের আগ্রহ বেশি। কাজেই নির্বাচন যেন উৎসবমূখর হয় সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এই নির্বাচনের দুদিন আগে নির্বাচনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক সরকারের আবরণে স্থানীয় সরকারের টুঁটি চেপে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মেয়র অনেকটাই ক্ষমতাহীন। এ মুহূর্তে জনদুর্ভোগ লাঘবে সিটি করপোরেশনের যদি কর্তৃত্ব না থাকে তাহলে এত ব্যয়বহুল এবং জটিল নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা বা যৌক্তিকতা কী আছে?
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন প্রশ্ন তোলেন। তিনি মেয়রের কর্তৃত্ব বাড়াতে সিটি করপোরেশন আইন সংশোধনের আহŸান জানিয়ে বলেন, এ মুহূর্তে সিটি করপোরেশন আইন সংশোধন করা না গেলে স্থানীয় সরকার কমিশন গঠন অথবা চট্টগ্রাম নগর বা বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের অধীনে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা যেতে পারে। তবেই সমন্বয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামের উন্নয়ন সাধন করা যাবে।
মেয়রের কাজের সুবিধা বা সিটি করপোরেশনকে কার্যকর করতে ঢাকার সাবেক মেয়র, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফ ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ চালুর দাবি তুলেছিলেন। তাঁকে অনুসরণ করে মহিউদ্দিন চৌধুরীও তাঁর সময়ে ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর মহিউদ্দিন চৌধুরী দাবি থেকে সরে আসেন। সে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় সিটি গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে আশরাফ সাহেব মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নিবৃত্ত করেছিলেন।
বছর তিনেক আগে সিটি করপোরেশন ভবনে তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছিরের সঙ্গে আলোচনার একটি পর্যায়ে বন্দর থেকে একটি সারচার্জ আদায়ে জনমত গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়েছিলেন আ জ ম নাছির। সে সময় তিনি সড়ক নির্মাণ ও মেরামতে বন্দর থেকে একটি পারসেন্টেজ আদায়ের দাবি করেছিলেন। এরপর তিনি এই দাবিতে আর সোচ্চার হননি। পরে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে খোরশেদ আলম সুজন বন্দর, কাস্টম এবং স্টিলমিল মালিকদের কাছ থেকে অন্তত এক পারসেন্ট সারচার্জ আদায়ের দাবি উত্থাপন করেন। সুজনের এই দাবির প্রতি নগরবাসীর সমর্থন থাকলেও রেজাউল করিমের ইশতেহারে তার কোনো উলে­খ নেই। তবে অনেকে মনে করেন এই দাবি প্রতিষ্ঠা করা গেলে সিটি করপোরেশনের আর্থিক টানাপোড়েন অনেকটা কেটে যেত।
১৯৯৪ সালে মেয়র নির্বাচনে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিজয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। মাঝখানে মনজুর আলম পাঁচ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি মনেপ্রাণে আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় এবং সরকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ থাকায় সিটি করপোরেশনের কর্তৃত্ব আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়নি। ফলে এই দীর্ঘ সময় সিটি করপোরেশনের সাফল্য ও ব্যর্থতার দায় আওয়ামী লীগ এড়িয়ে যেতে পারবে না। দিনশেষে নিরপেক্ষ বিচারে সিটি করপোরেশন পরিচালনায় ক্ষমতাসীন দলকে ৫০ নম্বরের বেশি দেওয়া যাবে না। কারণ ব্যাখ্যা করে দেখানোর প্রয়োজন নেই নগরবাসী মাত্রই তা অনুধাবন করতে পারে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। তার অনেক উদাহরণ আছে। সমস্যা হলো তাঁর সামনে সঠিক পরিকল্পনা তুলে ধরার অভাব। এই একটি কাজের অভাবে চট্টগ্রামের অনেক উন্নয়নকাজ সঠিক সময়ে হয়নি। নির্বাচনে কে জিতবেন জানি না। যে-ই জিতুন চট্টগ্রাম উন্নয়নে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে সরকারপ্রধানের সহযোগিতা পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে বলে মনে হয় না। মনে রাখতে হবে, উন্নয়নের ধারা বজায় রাখাটাই হবে আসল কাজ।

লেখক : সাংবাদিক