চসিকের অস্থায়ীরা স্থায়ী না হলে কর্মবিরতি

26

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্দরকিল্লায় পুরাতন নগর ভবন চত্ত¡রে চলছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের প্রস্তুতি সভা। ব্যানার-বক্তব্যে তুলে ধরা হয়েছে ‘এক দফা এক দাবি’। তা হল অস্থায়ীদের চলতি মাসের মধ্যে স্থায়ী করার উদ্যোগ নিতে হবে। সান্ত¦না নয়, দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কর্মবিরতি-ধর্মঘট করে সংস্থাটির নাগরিক সেবাকে অচল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে স্লোগানও তেজ ছড়িয়েছে সবাবেশজুড়ে।
এরই মাঝে বসে আছেন শিল্পী চৌধুরী। পরনে সাদা এপ্রোনের উজ্জ্বলতা লক্ষ করা গেলেও, মলিনতা তার চিন্তার ভাজ কাটা মুখটাতে। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কাজ করছেন তিনি। চাকরি এখনও স্থায়ী হয়নি। অন্তত শেষ সময়ে হলেও স্থায়ী হয়ে চাকরি জীবনের ইতি টানতে চান শিল্পী চৌধুরীর মত অনেকে। তাদের হিসেবে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী সিটি করপোরেশনে কাজ করছেন। তাদের একেক জনের চাকরির বয়স ৭ থেকে ২৫ বছর।
বিকাল ৩টা থেকে সংগঠনটির আহব্বায়ক আবু তাহেরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব সাজু মহাজন, যুগ্ম আহব্বায়ক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, জামশেদ মোহাম্মদ, লিটন বড়ুয়া, রিপন কিশোর রায়, খাইরুল বশর তসলিম, জেসমিন আকতার, তাপস দে, রাজু তালুকদার, মো. আজম, সদস্য সরমন দাশ মালা, লিটন দাশ, মো জামাল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র যুগ্ম সচিব জাহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার।
বক্তরা বলেন, সিটি করপোরেশন নগরবাসীকে সেবা প্রদান করে। এসব কাজের বেশিরভাগই সম্পাদন করে অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মেয়র আসেন, মেয়র যায়। আমলাদের চেয়ার বদলায়, তবুও অস্থায়ীদের চাকরি স্থায়ী হয় না। কাজের তুলনায় বেতন কম, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়। একই সাথে চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই যেকোনভাবে স্থায়ী করতে হবে। চলতি মাসের শেষ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান ও বাস্তবায়নযোগ্য অগ্রগতি না হলে চসিক প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট, কর্মবিরতি ও অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে।
আজ মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি প্রদান, ৮ ডিসেম্বর চসিক প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন, ১১ ডিসেম্বর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন, ১৫ ডিসেম্বর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান স্থায়ীকরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান না হলে কর্মবিরতি ও ধর্মঘটে যাবে অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা নাগরিক সেবাও বন্ধ করে দেবেন বলে ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, গত অক্টেবরের শেষ দিকে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে স্বস্তি ফিরেছিল তাদের মধ্যে। তখন চসিক অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মপরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং মেয়র রেজাউলের ঢাকার বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রী তাজুল ইসলাম চট্টগ্রামে এসে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ থেকে ছাঁটাই হওয়া ৪০ ভিক্ষুকের ঘেরাওয়ের মুখে পড়েন। চসিক অস্থায়ী কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে সেদিনেই মন্ত্রী তাজুল ইসলামকে স্মারকলিপি দিয়েছেন চসিক সিবিএ নেতারা।
চসিকের অস্থায়ী কর্মীরা বলছেন, মেয়র রেজাউলের ঢাকা সফর শেষে তেমন কোন ভালো খবর মেলেনি। পরে তাদের ভরসা ছিল মন্ত্রী তাজুল ইসলামের চট্টগ্রাম সফরে ভালো খবর পাবেন।কিন্তু ২০২১ সালের ডিসেম্বরে চাকরি স্থায়ীকরণের যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা থমকে আছে চিঠি চালাচালি পর্যন্ত। তাই বাধ্য হয়ে কর্মবিরতির পথে হাঁটছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৮৮ সালের জনবল কাঠামো দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে চসিক। যেখানে অনুমোদিত পদ রয়েছে তিন হাজার ১৮০টি। অথচ চসিকে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে প্রায় নয় হাজারেরও বেশি। সক্ষমতা বাড়লেও আইনি জটিলতার দোহাই দিয়ে দুই যুগেও স্থায়ী হয়নি অস্থায়ী কর্মচারীরা। ভুক্তভোগীরা একাধিকবার আন্দোলন করলেও আশ্বাসেই আটকে আছে, মিলছে না সুফল।
এদিকে অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ী না করেই নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে চসিক। এর বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করলে ওই বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে চসিকের সর্বশেষ সাধারণ সভায় অধিকাংশ কাউন্সিলর অস্থায়ীদের স্থায়ী করার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থায়ী করার দাবিতে গত ৮ অক্টোবর মেয়রের কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন চসিক পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।