চলাফেরায় সতর্ক হোন

27

 

পৃথিবীটা বিশাল কর্মক্ষেত্র। এখানে মানুষের বিরামহীন ছুটে চলার অভ্যাস। বিভিন্ন সময় কারণে, অকারণে মানুষকে এখানে-ওখানে যেতে হয়। আমরা নিজেদের প্রয়োজনে প্রতিদিন বের হই নানা কাজে। কেউ চাকরি, কেউ ব্যবসা, কেউ স্কুল-কলেজে কিংবা প্রয়োজনীয় কাজের উদ্দেশে। তাছাড়া, অনেকেই সারাদিন বা রাতে কাজে ব্যস্ত থাকেন। এই যে কাজকর্ম সেগুলো করতে গিয়ে অথবা চলাফেরায় আমরা সাধারণত স্বাভাবিক সাবধানতা অবলম্বন করি। মাঝে মাঝে কাজের গুরুত্বের কারণে নিজের দিকে খেয়াল করার সুযোগই হয়ে উঠেনা। কাজের মধ্যেই ডুবে থাকতে হয়। ফলে, চলার বাঁকে বাঁকে অনেক সময় সতর্ক থাকতে পারিনা অথবা বেখেয়ালে থাকি। কিন্তু সাবধানতা অবলম্বনে ঘাটতি থাকলে জীবনের ঝুঁকি বাড়ে। শঙ্কায় থাকে পরিবার। আমাদের নিয়ে তারা চিন্তা করেন ঘরে না ফেরা পর্যন্ত। এখন পুরুষ এবং নারীর কাজের পরিধি বেড়েছে। বেড়েছে ব্যস্ততাও। যে কারণে সাবধানতা বা সতর্কতা অবলম্বনের ক্ষেত্রে আমাদের আরো যতœবান হতে হবে। পথ চলতে ডানে-বাঁয়ে, পেছনে খেয়াল করা উচিত। বিশেষ করে গাড়ি চলাচলের রাস্তায় সতর্কতা অবলম্বন খুবই জরুরি। কারণ গাড়ি তার সঠিক গতিতে যথাযথভাবে যেসব সময় চলবে তার নিশ্চয়তা নেই! পাশাপাশি বাস, ট্রেনে উঠার সময় হাত, পা যেন ফসকে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। একটু অসচেতনতায় জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে! হাঁটাহাঁটি করতে গিয়ে অসাবধানতায় পা ফসকে কোন গর্ত, ম্যানহোলে বা বর্ষায় নালা-নর্দমায় পড়ে যাওয়ার শংকা থাকে। এইতো কিছুদিন আগেও চট্টগ্রামে এ ধরনের দুর্ঘটনায় বেশকয়েকজন গুরুতর আহত এবং নিহত হয়। নিজের প্রাণ বাঁচাতে নিজেরই সাবধানতা অবলম্বন করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।
চলার পথে আশেপাশে নির্মাণাধীন কোন ভবন আছে কিনা দেখে নেওয়া ভালো। কারণ বিভিন্ন সময় পত্রিকার খবরে নির্মাণাধীন ভবনের ইট, লোহা বা নির্মাণসামগ্রী পড়ে মানুষের আহত, নিহত হওয়ার খবর পত্রিকায় শিরোনাম হয়। অন্যরা দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে কি জীবন সুরক্ষার জন্য নিজেই সচেতন হবো না?
নির্জনে একাকী পথচলা পরিহার করতে হবে। কারণ, নানা আশঙ্কা থাকা অমূলক নয়। রাস্তাঘাটে সদা তৎপর মলমপার্টি, অজ্ঞানপার্টি, ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা। একটু সুযোগের অপেক্ষায় থাকে তারা। মুহূর্তেই ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে সব। এমনকি প্রাণটাও।
যানবাহনে অপরিচিতি জনের দেওয়া খাবার, কিংবা নেশাযুক্ত দ্রব্য দিয়ে অজ্ঞান করার ভয়ও রয়েছে। এজন্য সদা সতর্কভাবে চলাফেরা করা দরকার। প্রয়োজনের তাগিদে অপরিচিত এলাকা বা অপরিচিতজনদের সংস্পর্শে আসার আগে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত। পরিচিতজনের সহায়তা নিতে পারলে আরো ভাল। চলার পথে টুকটাক কাজ করতে গিয়ে ভুলে যাই হাতে কিংবা কাঁধে ব্যাগ ছিল, ছিল ল্যাপটপ। অথবা প্যান্টের পেছনের পকেটে মানিব্যাগ, মোবাইল ছিল। সামান্য খেয়ালের ভুলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক জিনিসই হারিয়ে ফেলি। যা শত চেষ্টার পরও খুঁজে পাইনা। এরকম অবস্থা অনেকের হয়। এজন্য চলার পথে, কাজ শেষে বা কাজের ফাঁকে সঙ্গে থাকা সব জিনিসপত্রের দিকে দু’একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া ভালো। একটু সতর্ক হলে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়। অনেকে অনেক রাত করে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরেন। কাজের চাপেও সেটি হতে পারে। রাত গভীর হলে সারাদিনের কোলাহলপূর্ণ সড়ক ও জনপদগুলোতেও একাকীত্ব ভর করে। ফাঁকা রাস্তায় গাড়িগুলোও গতি পায়! এ সময় জীবনের শঙ্কা ও বাড়ে। কখন বিপদ হয়। তাই যত দ্রæত সম্ভব কাজ শেষে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এরপরও আমাদের ভুল হতে পারে কারণ, আমরা মানুষ। এজন্য যতটুকু পারা যায় আমাদেরকে চোখ কান খোলা রেখে চলাফেরা করতে হবে। একটু সচেতনতাই পারে আমাদেরকে বিভিন্ন অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি ও বিপদ থেকে মুক্ত রাখতে। ভুলে যাওয়া কিংবা কাজের বাধ্যবাধকতা জীবনের স্বাভাবিক বিষয়। তারপরও আমাদের নিজের জন্য, পরিবারের জন্য চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বন করার চেষ্টা করতে হবে।
পাশাপাশি অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। করোনার এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও নিজেকে সুরক্ষার ব্যাপারেও সচেতন হতে হবে। আসুন সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বন করি। চোখকান খোলা রেখে সাবধানে পথ চলি। নিজে সতর্ক হয়ে চলি, অন্যকেও সচেতন করে তুলি।
লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক