চবি থানা প্রকল্প ভবন আছে পুলিশ নেই

22

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জিরো পয়েন্টে প্রবেশের আগ মুহূর্তে হাতের ডানে তাকালেই চোখে পড়বে একটি দৃষ্টিনন্দন ভবন। চবি সীমানার পাশে নির্মিত হলেও এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ভবন নয়, এটি চবি থানার জন্য নির্মিত ভবন। ছয় তলা ভবনটি পড়ে আছে প্রায় একবছর ধরে। নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলেও উদ্বোধন হয়নি আবাসিক সুবিধা সম্পন্ন চবি থানা ভবনটি। অন্যদিকে চবি পুলিশ ফাঁড়িটিও এখানে স্থানান্তর করা হচ্ছে না। ফলে ভবনটি পড়ে আছে পুলিশ শূন্য অবস্থায়।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২১০০ একরের আয়তনে দেশের সর্ববৃহৎ এই ক্যাম্পাসে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর আনা-গোনা। বিশাল ক্যাম্পাস হওয়ায় বর্তমানে ফাঁড়িতে থাকা অল্পসংখ্যক পুলিশ দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন সংঘর্ষে থানা থেকেই পুলিশ যেতে সময় লাগে। রিজার্ভ ফোর্স পৌঁছার আগেই ঘটনা বড় হয়ে যায়। তাই ২০১৪ সালেই আবাসিক সুবিধা সম্পন্ন ভবনটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। চট্টগ্রাম গণপূর্ত হাটহাজারী সার্কেল সূত্রে জানা যায়, ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনের জন্য মোট চার টেন্ডারে ৫ কোটি ৪ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথম টেন্ডার হয় ৫ জানুয়ারি ২০১৫ সালে। ৯ মাস মেয়াদি ওই প্রকল্পে বরাদ্দ আসে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। পরের বছরের ১৬ নভেম্বর আরেক টেন্ডারে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলার জন্য বরাদ্দ আসে ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। আবার ২০১৯ সালের ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি পৃথক দুই টেন্ডারে ৬ষ্ঠ তলা জন্য ৮৫ লক্ষ এবং রোড, রিটার্নিং ওয়ালের জন্য ৬৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে।
চট্টগ্রাম গণপূর্ত হাটহাজারী সার্কেলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৌরভ বিশ্বাস পূর্বদেশকে বলেন, চবি পুলিশের জন্য নির্মিত ভবন প্রকল্পটি চার টেন্ডারে নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন ভবন বুঝিয়ে দেয়ার পালা। গণপূর্ত বিভাগ যেকোন সময় জেলা পুলিশকে ভবন বুঝিয়ে দিতে পারবে।
এদিকে ২০১৫ সালে চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার চবি থানাসহ মোট দশটি থানা বাড়ানোর প্রস্তাব সদর দফতরে পাঠিয়েছিলেন। পুলিশ সুপারের এমন আবেদনের প্রেক্ষিতে ৯ থানার জন্য গণশুনানি হয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের। শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি থানার জন্য গণশুনানি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায় ২০১৮ সালে।
প্রস্তাবনা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ এলাকাসহ আরে ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে মোট ৭৮ বর্গ কিলোমিটারজুড়ে দায়িত্ব পালন করার কথা রয়েছে চবি থানার। ইউনিয়ন পরিষদগুলি হচ্ছে ফতেপুর, চিকনদন্ডি, দক্ষিণ মাদার্শা, শিকারপুর ও বুড়িশ্চর।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলেন, স¤প্রতি চবি ক্যাম্পাসে বেড়েছে নানা অপরাধ। বহিরাগতদের দ্বারা চুরি, ছিনতাই, মারামারি, ইভটিজিং ও ধর্ষণ চেষ্টার মত মারাত্মক অপরাধ এখানে হরহামেশাই হচ্ছে। দূরবর্তী থানা হওয়ার কারণে যেকোন ঘটনায় মামলা যেমন হচ্ছে না, যেকোন বিষয়ে তদন্তও সঠিকভাবে হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের অভিমত, চবিতে থানাটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হবে, কমবে বহিরাগতদের উৎপাত।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, বর্তমানে হাটহাজারী থানায় ৬জন ইন্সপেক্টর ও ২৬ জনের মত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার কাজ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই জেলা এ থানার বুক চিরে নগরে প্রবেশ করে। একদিকে আমান বাজার মদুনাঘাট অন্য দিকে রাউজান, ফটিকছড়ি সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে বিশাল এ এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে হাটহাজারী থানা। তাই ২০১৫ সালেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকা নিয়ে এ থানা গঠনের পরিকল্পনা করে তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চবি পুলিশের জন্য নির্মিত ওই ভবন শীঘ্রই উদ্বোধন হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, থানার জন্য একটি ভবন নির্মাণ হয়েছে শুনেছি। এগুলো পুলিশ কতৃপক্ষ জানেন। থানা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন সহযোগিতা লাগলে করা হবে।