চবি ছাত্রলীগ ও স্থানীয়দের মধ্যে ফের সংঘর্ষ

9

চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রæপ বিজয় ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল রবিবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাথে মোটরবাইকের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর সংঘর্ষের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলগেইট এলাকা সোয়া এক ঘন্টা অবরোধ করে রাখে স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, বিজয় গ্রুপের দু’জন কর্মী মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এমন সময় দুই নম্বর গেইট এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাথে ধাক্কা লাগে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক যুবকের সাথে বাইক আরোহী ছাত্রলীগ কর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্থানীয় ওই যুবক জোরে জোরে গালিগালাজ শুরু করলে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে মারতে উদ্বুদ্ধ হন। এর মধ্যে উভয় পক্ষে আরো লোকজন জড়ো হয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও কিছু সময় পর ছাত্রলীগের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হল থেকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বের হয়ে জোবরা গ্রামে প্রবেশ করে। এসময় গ্রামবাসীরা তাদের বসত বাড়ির আড়াল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। অপরদিকে ছাত্রলীগকর্মীরাও রাস্তার ধারে থাকা বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে এ ঘটনার জেরে বিকেল সোয়া পাঁচটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল গেইট এলাকা অবরোধ করে রাখে স্থানীয়রা। প্রায় সোয়া এক ঘন্টা অবরোধের পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হাটহাজারী থানা প্রশাসন সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, স্থানীয়দের সাথে ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়েছিল। পুলিশের সহায়তায় উভয়পক্ষকে আমরা শান্ত করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আগামিকাল (আজ) বসে সমাধান করব।
প্রসঙ্গত, এর আগেও গত ১৪ এপ্রিল স্থানীয়দের সাথে বিবাদে জড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। ওই সময় স্থানীয়দের এলোপাতাড়ি হামলায় অন্তত ২০ ছাত্র আহত হয়েছিলেন।
ওইসময় হামলার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন টেন্ডারে স্থানীয়দের স্বার্থ ও বিভিন্ন দফতরে চাকরির ক্ষেত্রে স্থানীয়রা অগ্রাধিকার পাওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা করেছে বলে মনে করেছিলেন অনেকে।