চবির ‘এ ইউনিট’র ভর্তি পরীক্ষায় ২১ হাজার পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত

18

চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিজ্ঞান অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদভুক্ত এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এতে মোট আবেদন থেকে ২০ হাজার ৯৫৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেননি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর বারোটা পর্যন্ত চলে ১ম শিফটের পরীক্ষা। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চলে ২য় শিফটের পরীক্ষা। তবে নিয়ম অনুযায়ী সকালের শিফটে পৌনে দশটা ও বিকালের শিফটে সোয়া দুইটার আগে হলে প্রবেশ করেন পরীক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ১৭টি কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে হাটহাজারী কলেজে অনুষ্ঠিত হয় ভর্তি পরীক্ষা। এ ইউনিটের দুই শিফটের পরীক্ষায় ৫৪ হাজার ১০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। বাকি ২০ হাজার ৯৫৮ জন অনুপস্থিত ছিলেন। সে হিসেবে ‘এ ইউনিট’র ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল ৬১ দশমিক ২৭ শতাংশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া। এদিকে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন ৭ পরীক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও ব্যাগ চুরির ঘটনাও ঘটেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও ব্যাগ জমা রাখার নামে ৭ পরীক্ষার্থীর মোবাইল ও ব্যাগ নিয়ে লোপাট হয়ে গিয়েছে একটি প্রতারক চক্র।
ভুক্তভোগী ভর্তি পরীক্ষার্থীরা বলেন, ১০ জন যুবক হেল্প ডেস্ক বসিয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন মোবাইল, ব্যাগ ইত্যাদি জমা রাখার কথা বলেন। যেহেতু পরীক্ষার হলে মোবাইল নেয়া নিষেধ তাই তারা হেল্প ডেস্ক দেখে বিশ্বাস করে সেখানে তাদের মোবাইল ও ব্যাগপত্র জমা রেখেছিলেন। এসময় তারা ভর্তিচ্ছুদেরকে টোকেনও দেন যাতে করে এসব টোকেন দেখিয়ে তারা তাদের জমাকৃত জিনিস ফেরত পান। কিন্তু পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষ করে বের হয়ে দেখেন যাদের নিকট তারা ফোন ও ব্যাগপত্র জমা রেখেছিলেন তারা লাপাত্তা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনোপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যদিও পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে কিছু পরীক্ষার্থীর মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে পুলিশ, প্রক্টরিয়াল বডি ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা কাজ করছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অনুপস্থিতির হার বেশি হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা হয়ে গেছে। ওখানে যারা ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেছেন তারা আর চবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসেননি বলে আমি মনে করি। এ কারণেই মূলত অনুপস্থিতির হারটা বেশি।
এর আগে বেলা ১১ টায় প্রথম শিফটের পরীক্ষা চলাকালে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধে আমরা সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কোনো প্রকার জালিয়াতির সুযোগ নেই।