চবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২

32

পূর্ব ঘটনার জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দু’কর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। এছাড়া পাঁচ ছাত্রলীগকর্মীকে আটক করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বিবদমান পক্ষ দুটি হল শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলে অনুসারী হিসেবে পরিচিত বগি ভিত্তিক সংগঠন সিএফসি এবং সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সিক্সটি নাইন।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন ইংরেজি বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী হাসান ও পালি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্লাটুন চাকমা।তারা উভয়ই ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক সংগঠন সিক্সটি নাইনের কর্মী হিসেবে পরিচিত। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে আনা হয়। চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তফা কামাল পারভেজ বলেন, আহত দুজনকেই চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে আটককৃতদের মধ্যে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শাকিল, পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সাজন, আরবি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শাকিল, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের আসির উদ্দীনের নাম জানা গেছে। তারা সবাই সিএফসি গ্রæপের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত সোমবার বিকাল ৪ টার শাটল ট্রেনে জাহাঙ্গীর আলম নামে সিএফসির এক কর্মীকে মারধর করে সিক্সটি নাইনের কর্মীরা। এর জেরে গতকাল দুপুর আড়াইটর দিকে সিক্সটি নাইনকর্মী মেহেদী হাসানকে মারধর করে সিএফসির কর্মীরা। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে উভয় পক্ষই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরস্পর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপে লিপ্ত হয়। এ সময় শহীদ আবদুর রব হল থেকে অস্ত্র নিয়ে সিএফসির ৫০/৬০ জন ছাত্রলীগ কর্মী সোহরাওয়ার্দী হলের দিকে আসতে গেলে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয়। এখান থেকে পুলিশ পাঁচ ছাত্রলীগকর্মীকে আটক করতে দেখা যায়। বর্তমানে সিক্সটি নাইনের কর্মীরা শাহজালাল হল ও সিএফসির কর্মীরা শাহআমানত হলে অবস্থান করছে।
সিক্সটি নাইন গ্রæপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত সহসভাপতি মনছুর আলম বলেন, ‘অনাকাক্সিক্ষত একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের পথে।’
অন্যদিকে সিএফসি গ্রæপের নেতা ও বিলুপ্ত কমিটির উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক সায়ন দাশ গুপ্ত বলেন, ‘জুনিয়রদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির জেরে তাদের সাথে একটু ঝামেলা হয়। পরে তারা আমাদের কয়েকজন জুনিয়রকে আল মনির কটেজে আটকে রাখে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সিনিয়ররা বসেছি। সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিটন মিত্র বলেন, ‘মারামারি খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হযেছিল। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে।’
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা বলেন, ‘ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলকারীদের ছাড় দেয়া হবে না। যাকে পাওয়া যাবে তাকেই আটক করা হবে। যে গ্রæপেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’