চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ চাই

23

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম

চট্টগ্রাম শহরের প্রধানতম সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতা বর্যাকালে জীবনমরণ সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। সাম্প্রতিক কালে মাত্র একদিনের বর্ষণেই শহরের অনেক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। মানুষের চলাচল থমকে যায়। এ থেকে অনুমান করা যায় আসছে বর্ষায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ নিয়ে ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে নিউজ প্রচারিত হয়। দেওয়া হয় বিভিন্ন মতামত। বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার এই সমস্যা থাকলেও এ থেকে মুক্তি মিলছেনা। জনপ্রতিনিধি আসে জনপ্রতিনিধি যায়। আশ্বাসও মেলে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা মেলা ভার! প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বরাদ্দ হয় কোটি কোটি টাকা। কিন্তু বৃষ্টি কিংবা বর্ষায় মানুষকে ঠিকই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
গত ঈদুল ফিতরের দিনেও আধা ঘণ্টার বর্ষণে দুই নাম্বার গেইট, মুরাদপুরসহ শহরের নানা স্থান হাঁটু পরিমাণ পানিতে তলিয়ে যায়। কষ্টে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। জলাবদ্ধতায় যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কিংবা অফিসগামী চাকুরিজীবীদের কষ্ট আরো বৃদ্ধি পায়। কিছু কিছু যানবাহন চলাচল করলেও মাঝপথে স্টার্ট বন্ধ হলে জলজটের সাথে যানজট লেগে যায়। তখন অবস্থা আরো মারাত্মক হয়ে পড়ে। তাছাড়া, অনেকসময় পানিতে চলতে গিয়ে উল্টে যায় গাড়ি। আহত হন যাত্রীসাধারণ। জলাবদ্ধতার এই সমস্যা থেকে নগরবাসী কবে মুক্তি পাবে বলা মুশকিল।
তাছাড়া, নালা,নর্দমা আর খালে নানা ধরনের বর্জ্য, প্লাস্টিকের কারণেও পানি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন সময় সিটি কর্পোরেশন পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম করতে গিয়ে সেটা চোখে পড়ে। সেজন্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের পাশাপাশি নগরবাসিরও কর্তব্য যত্রতত্র ময়লা, আবর্জনা কিংবা প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলা। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা। তবেই জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া পদক্ষেপ কার্যকরি হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কোন বিকল্প নেই। এক কর্তৃপক্ষ আরেক কর্তৃপক্ষের দিকে চেয়ে থাকলে সমস্যা না কমে বরং বাড়তেই থাকবে। অথবা একজন আরেকজনকে দোষারোপ করলে কাজের কাজ কিছুই হবেনা। মাঝখানে নগরবাসী কষ্টে পড়বে। তারপরও কিছু কিছু কাজ হলেও তা জলাবদ্ধতা নিরসনে তেমন কোন ভূমিকা রাখছে বলে মনে হয়না। নগরীর খালগুলো উদ্ধার করে পানি চলাচলের উপযোগী করতে পারলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমবে বলে মনে করি। তাছাড়া, নালা, নর্দমা ভরাট করে যারা বিল্ডিং নির্মাণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রভাবশালী এবং পেশীশক্তির রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করাটাই চ্যালেঞ্জ। আশা করছি নবনির্বাচিত মেয়র জনাব রেজাউল করিম চৌধুরী নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগী হবেন। সব কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে যা যা প্রয়োজন সেসব পদক্ষেপ নেবেন। আগামী বর্ষা মওসুম শুরুর আগে অন্ততপক্ষে কিছু মৌলিক কাজের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায় নিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করছি।
চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ প্যানেল করে তাদের পরামর্শ নিয়ে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে উপযুক্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সরকার, সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এ কাজে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক