চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

32

নিজস্ব প্রতিবেদক

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। এর আগে গত শুক্রবার রাতে মেডিকেলের প্রধান ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা।
আহতরা হলেন- মাহফুজুল হক (২৩), নাইমুল ইসলাম (২০) এবং আকিব হোসেন (২০)। এদের মধ্যে আকিব শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী, মাহফুজ ও নাইমুল ইসলাম সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। তাদেরকে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের উপর অতর্কিতে হামলা চালান শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারীরা। ওই হামলায় আ জ ম নাছির উদ্দীনের দুজন অনুসারী চমেকের ৬১ ব্যাচের মাহফুজুল হক (২৩) ও ৬২ ব্যাচের নাইমুল ইসলাম (২০) আহত হন। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল শনিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসের মূল ফটকের কাছাকাছি এলাকায় শিক্ষা উপমন্ত্রীর অনুসারী আকিব হোসেন (২০) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেন আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীরা। এতে আকিবের মাথা ফেটে যায়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রীর অনুসারীরা ধাওয়া করের সাবেক মেয়রের অনুসারীদের। তারা চমেক অধ্যক্ষের রুমে ঢুকে পড়ে। দুপুর ১টা পর্যন্ত সেখানেই অবরুদ্ধ ছিলেন তারা। পরে পুলিশ পাহারায় নাছিরের অনুসারীরা সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।এ সংঘর্ষের পর গতকাল দুপুরে জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। আর শিক্ষার্থীদের গতকাল সন্ধ্যার মধ্যে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কলেজ ও হাসপাতাল, এবং প্রধান ছাত্রাবাসসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঘটনা তদন্তে সার্জারি বিভাগের প্রফেসর মতিউর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আসার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় কলেজ কর্তৃপক্ষ।
চমেক অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আক্তার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাস পুলিশ প্রশাসনের উপর ন্যস্ত করা হল। পরিস্থিতি অনুক‚লে আনার জন্য পুলিশ প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় যেকোনো ছাত্রকে বা তাদের কক্ষ তল্লাশি করতে পারবে। তার জন্য কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির কোনো প্রয়োজন হবে না।
সিএপিমর উপ কমিশনার (দক্ষিণ) বিজয় বসাক বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে হোস্টেল খালি করতে সহযোগিতা চেয়েছে। আমরা কলেজ অধ্যক্ষকে সাথে নিয়ে আবাসিক হল খালি করছি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আক্তার বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জরুরি সভা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কলেজ। একইসাথে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আসার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কলেজ বন্ধ থাকবে।
পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, শুক্রবার রাতের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন শনিবার সকালে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় তিনজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করেছেন আহতদের একটি পক্ষ। গতকাল শনিবার পাঁচলাইশ থানায় ১৬ জনকে বিবাদী করে এজাহারটি দায়ের করেন কলেজের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তৌফিকুর রহমান। তবে সর্বশেষ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানা কোনো মামলা রেকর্ড হয়নি।