চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ করা জরুরি

19

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরেই চবির অবস্থান। দেশে বিদেশে চবি’র সুনাম সর্বজন বিধিত। অর্ধ শতাব্দীরও অধিক সময় পার করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরে হাটহাজারী উপজেলার জোবরা গ্রামের পাহাড়ি প্রকৃতির অনিন্দ্য সৌন্দর্যের আশ্রয়ে দীর্ঘ দিন হতে দেশে উচ্চশিক্ষা বিতরণ করে চলেছে। এবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো শাটল ট্রেন। দেশের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেন নেই। চট্টগ্রাম শহর হতে শাটল ট্রেনে চবি’র শিক্ষার্থীরা সকাল সন্ধ্যা আসা যাওয়া করে পড়ালেখা করে থাকে। আবাসিক হলে যত শিক্ষার্থী অবস্থান করে তার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী শাটল ট্রেন ব্যবহার করে চবিতে জ্ঞানার্জন করে। শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ আনন্দের বিষয়। ছাত্র-ছাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন হতে আসা যাওয়ার সময় বেশ আনন্দে রেল ভ্রমণ উপভোগ করে থাকে। চট্টগ্রাম হতে পাহাড়তলী, ষোলশহর ২নং গেইট, ক্যান্টনমেন্ট এবং ফতেয়াবাদ হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে শিক্ষার্থীরা। যাত্রা পথে চট্টগ্রামের পাহাড়ি প্রকৃতির শোভা দেখে দেখে, যে যার মতো করে ফুরফুরে মেজাজে বই পড়ে, কোরাস গান গেয়ে আড্ডায় মেতে ট্রেনের সময় অতিবাহিত করতে দেখা যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছার পর ঐতিহ্যগত ভাবে ফ্যাকাল্টিতে যাতায়াতের বাস, রিক্সা, সিএনজি, অটোরিক্সায় চড়ে কিংবা পায়ে হেঁটে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হল ও ফ্যাকাল্টিতে পৌঁছে। ইদানীং নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত গণপরিবহন দেয় না বলে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে। আমরা যখন ৮০/৯০ এর দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম তখন ক্যাম্পাসে যাতায়াতে আমাদের কোন রকম জটিলতা ছিল না। মোড়ে মোড়ে দাঁড়ালেই গণপরিবহন পাওয়া যেত। বর্তমানে চবির ফ্যাকাল্টির সংখ্যা, হলের সংখ্যা, অনুষদের সংখ্যা বেড়েছে। এর সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত ইনিস্টিটিউটও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার কারণে ক্যাম্পাসের পরিধি পূর্বের তুলনায় অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে। এমতাবস্থায় ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীর জন্য পর্যাপ্ত গণ পরিবহন না থাকা দুঃখজনক। ফ্রি-গণপরিবহন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আমাদের কাম্য নয়।
দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন হতে জানা যায় সকালে বিকালে শহরগামী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনে ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে শহরমুখী ৭টার ট্রেনে বহিরাগত বখাটেদের উৎপাত বেড়েছে। তাদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীরা নাজেহাল হচ্ছে। শাটল ট্রেনের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা কারো কাম্য নয়। এ বিষয়ে প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিশেষ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। ক্যাম্পাসে কিংবা ক্যাম্পাসের আসেপাশে চবি শিক্ষার্থীরা নানা ভাবে কখনো সিএনজি ওয়ালা কখনো স্থানীয়দের সাথে বারবার বিরোধের খবরও পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিষয়গুলো দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সাথে সিএনজি চালক ও স্থানীয়দের সম্পর্ক বরাবরই ভালা রাখার স্বার্থে উভয় পক্ষের শান্ত ও যৌক্তিক আচরণ করা প্রয়োজন।
দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার অন্য এক প্রতিবেদনে ক্যাম্পাসে বাস সার্ভিসের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া যায়। ক্যাম্পাসে বাস সার্ভিস স্বাভাবিক না থাকলে ছাত্র-ছাত্রীদের নানা হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। একদিন কোন কারণে বাস সার্ভিস না থাকলে শিক্ষার্থীদের যে দুর্ভোগ হয় তা বর্ণনাতীত। চবি ক্যাম্পাসে বাস সার্ভিস শুরু থেকে সব সময় ছিল, ইদানীং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা নানা দুর্ভোগ ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছে। যে কারণে ক্যাম্পাসে বাস সার্ভিসের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট রিক্সা এবং সিএনজি অটো রিক্সার জুলুম নির্যাতন হতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ করতে কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে গণপরিবহন স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা করবে এমন দাবি চবি শিক্ষার্থীদের। এক সময় ক্যাম্পাসে ফ্রি-বাস সার্ভিস ছিল। কর্তৃপক্ষ ফ্রি সার্ভিস চালু রাখতে না পারলেও হাফ ভাড়ায় ক্যাম্পাসে বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। আর তাতে সিএনজি ও রিক্সার জুলুম নির্যাতন হতে শিক্ষার্থীরা রক্ষা পাবে।
চবি’র শাটল ট্রেনে যৌন নির্যাতন বন্ধ, সিএনজি অটোরিক্সা ড্রাইভারদের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের ঐতিহ্য রক্ষা এবং ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ ও জরুরি। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে থাকে। তারাই ভবিষ্যতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কান্ডরী হবে। তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের প্রশাসনসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ীত্ব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বিষয়ে সকল সমস্যা সমাধানে চবি কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা আন্তরিক ভাবে এগিয়ে এলে চবির শিক্ষার্থীরা যাতায়াত সমস্যা হতে মুক্তি পাবে এমন অভিমত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বুদ্ধিজীবীদের।