চট্টগ্রাম ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির নির্বাচন ২৫ অক্টোবরের মধ্যে

52

নজিরবিহীন ফুটবলার সমাগম, সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে দু’পক্ষের পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য, হট্টগোল-উত্তেজনা আর আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির (চফুখেস) বহুল আকাঙ্খিত বিশেষ সাধারণ সভা। এর মধ্যদিয়ে চট্টগ্রামের ফুটবলারদের প্রাণের এ সংগঠনের দীর্ঘ এক বছরের বন্ধ দশার অবসান হয়ে সমিতির তিন যুগের ইতিহাসে প্রথমবারের মত একটি নির্বাচিত কমিটি উপহার দেয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন চফুখেস আহবায়ক কমিটি।
মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে মাওলানা জয়নাল আবেদিনের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সভার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সাবেক কৃতি ফুটবলার অমলেন্দু বিকাশ বড়ুয়া, স্বাগত বক্তব্য দেন নওজোয়ান ক্লাবের মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন চফুখেস’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এডওয়ার্ড জ্যাকব ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ফুটবলার সুনীল কৃষ্ণ দে। তারা ষাট-সত্তরের দশকের ফুটবলারদের একই ছাদের নিচে একত্রিত করার জন্য কমিটিকে কৃতজ্ঞতা জানান এবং ফুটলারদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।
এজেন্ডা অনুযায়ী প্রথমেই চট্টগ্রাম ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার শুরুতেই চফুখেস আহবায়ক হাফিজুর রহমান জানান, মাসিক বা বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ না করায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চফুখেস সদস্য থাকার যোগ্যতা সবাই হারিয়েছে। ফলে সবাইকে নতুন করে সদস্য করা হয়েছে। এতে ২৮৭৬ টি ফরম বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ছয়শ’ টাকা। যাচাই-বাছাই করে এর মধ্যে ১৯৮৭ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, ১২২ টি ফরম প্রক্রিয়াধীন। ৭৬৭ টি ফরম গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে বিশেষ সাধারণ সভার জন্য ১৩১৩ জন কার্ড সংগ্রহ করেছেন, এ থেকে আয় এক লাখ ৩১ হাজার ৩০০ টাকা। গত এক বছরে বিভিন্ন খাতে এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৩০ টাকা ব্যয়ের পর সমিতির ফান্ডে আছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৭০ টাকা। উপস্থিত হাজার হাজার ফুটবলার হাত তুলে চফুখেস আহবায়ক কমিটির স্বচ্ছ কার্যক্রমের সমর্থন জানান।
২য় এজেন্ডায় ছিল গঠনতন্ত্র সংশোধন। এ বিষয়ে বিভিন্ন জনের পরামর্শ তুলে ধরেন সভাপতি। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী গঠনতন্ত্র সংশোধনের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করে বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র, চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আ জ ম নাছির উদ্দীন ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামশুল হক চৌধুরী এমপি। মেয়র চফুখেস নির্বাচনের পর বিশাল মেজবান আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে ফুটবলারদের জন্য কল্যাণ ফান্ড গঠন করে তাতে পৃষ্ঠপোষকতার আশ্বাস দেন। সামশুল হক চৌধুরী এমপি চফুখেস কল্যাণ ফান্ডে ৫ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির অনুপস্থিতিতে সাবেক কৃতি ফুটবলারদের সমন্বয়ে নয় সদস্যের গভর্নিং কমিটি কাজ চালানোর ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিশেষ সাধারণ সভার তৃতীয় এবং শেষ এজেন্ডানুযায়ী সভাপতি নির্বাচন ঘোষণার জন্য মাইক্রো ফোন হাতে নিলে মানু, শরীফ টুটুল, নাছির ও নাজুর নেতৃত্বে কয়েকজন সাবেক ফুটবলার তেড়ে আসেন এবং বিগত কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেয়া পর্যন্ত নির্বাচন করতে দেবেন না বলে হৈ হুল্লোড় শুরু করেন। এসময় সভাপতি কঠোর ভাষায় ঘোষণা দেন, আমি একা হলেও সভা চালিয়ে যাব এবং আহবায়ক কমিটির দায়িত্বের আওতায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবো।
এর পর সংক্ষুব্ধ ফুটবলারদের পক্ষে শরীফউদ্দিন টুটুল বক্তব্য রাখেন। বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মান্নান তার বক্তব্যে বিশেষ সাধারণ সভায় উত্তেজনা সৃষ্ঠির জন্য প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করে বলেন, যারা আজ আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখছে তারা এক সময় আমার সাথে ছিল। তারা সমিতিকে ব্যবহার করে অনেক সুযোগ সুবিধা নিয়েছে। এখন শুধুমাত্র স্বার্থের জন্যই এ অপতৎপরতা। তারা আসলে সমিতির মঙ্গল চায় না, নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যই নানা রকম পাঁয়তারা করছে। আমাকে তারা এত বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রেখেছে, কেউ কখনো কিছুই বলেনি। আমি ছয় মাস দেশের বাইরে ছিলাম তখনও কমিটি গঠন করার জন্য টু শব্দটি করেনি।
পারভেজ মান্নানের বক্তব্যের এক পর্যায়ে ঐ কয়েকজনকে আবারও উত্তেজিত হতে দেখা যায়। তাদের বিপক্ষেও প্রচুর ফুটবলার দাঁড়িয়ে গেলে সভাপতিসহ সিনিয়র ফুটবলাররা এগিয়ে এসে উভয়পক্ষকে নিবৃত করে এবং তাদেরকে আক্রমণাত্মক না হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের গঠনমূলক বক্তব্য পেশ করার অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে একে একে বক্তব্য রাখেন সিটি কর্পোরেশনের নাসিরুদ্দিন, কাস্টমস কর্মকর্তা তাহেরুল আলম স্বপন ও নন্দীরাম লাল লাতু, রেফারি সমিতির আবদুল হান্নান মিরন, সাবেক ফুটবলার বাবুল দেব, শামীম আহমেদ, মোহাম্মদ হাসান, মোহাম্মদ বাদশা, মোহাম্মদ আলী মঈনু, ফুটবল কোচ মোহাম্মদ আলী ও ডেরিক র‌্যান্ডলফ।
পরে সবার সম্মতি নিয়ে চট্টগ্রাম ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সাবেক কমিটির আয়-ব্যয় হিসাব চূড়ান্ত করার জন্য সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ আহবায়ক কমিটির নয় জন ছাড়াও কৃর্তি সংগঠক বাবর আলী, এজহারুল হক টিপু, ইবাদুল হক লুলু ও তাহেরুল আলম স্বপনকে কো-অপ্ট করা হয়।
এসএম শহীদুল ইসলাম পবিত্র হজ্ব পালন উপলক্ষ্যে সৌদি আরব অবস্থান করায় সভায় আহবায়ক কমিটির বাকি সদস্যবৃন্দ জসিম উদ্দিন, আশীষ ভদ্র, আ ন ম কুদ্দুস, নজরুল ইসলাম লেদু, আ ন ম ওয়াহিদ দুলাল, দীপক বড়–য়া ও শাহাবুদ্দীন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর উপস্থিত ছিলেন।