চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ সময়োপযোগী

21

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ-এর বর্তমান যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। গতকাল দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত সড়কে মানুষের যত্রতত্র ভিড়ের দুইটি ছবি থেকেই তা সম্যক ধারণা করা যায়। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষামান হাজারো মানুষের ভিড় ও হুড়োহুড়ি করে বাসে উঠতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে অসংখ্য যাত্রী। অপরদিকে সিআরবিতে তরুণ যুবকদের আড্ডা ও চলা ফেরা যাদের অধিকাংশের মুখেই নেই মাস্ক। জাতীয় ও স্থানীয় সহযোগী পত্রিকায় সাম্প্রতিক সরকার প্রদত্ত স্বাস্থ্য বিধি না মানার চিত্র প্রকাশ করছে প্রায় প্রতিদিন। বিশেষ করে রেল ও বাস স্টেশন, হাট-বাজারে যাত্রী ও ক্রেতাদের অনেকেই মাস্ক না পরার বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা চড়াচ্ছে। সরকার বাসের প্রতি দুই আসনে একজন বসার শর্তে ভাড়া বাড়িয়েছে ৬০ শতাংশ। কিন্তু বুধবার ও বৃহস্পতিবারে দেখা যায়, বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলেও অধিকাংশ বাসে দুই আসনে একজন যাত্রী বসানোর শর্ত মানেননি পরিবহন শ্রমিকরা। লঞ্চের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও ভয়াবহতা আচ করে সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বটে, কিন্তু সেসব নির্দেশনার অধিকাংশই মানা হচ্ছে না। গ্রামাঞ্চলের খবর নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা সেখানে অনেক বেশি। প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ করোনাভাইরাস নিয়ে মোটেও বিচলিত নন, তারা স্বাভাবিক সময়ের মতোই দিন পার করছেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ শহরগুলোর অবস্থা যে খুব আশাপ্রদ, তাও নয়। শহরের রাস্তাঘাটেও অনেকের মুখে মাস্ক দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারগুলোতেও লোক সমাগম দৃশ্যমান। এ অবস্থায় আগামী দিনগুলোয় করোনা পরিস্থিতি কী আকার ধারণ করবে, তা ভাবলে গা শিউরে ওঠে। করোনা সংক্রমণের বর্তমান হার প্রায় ২০ শতাংশ। এই সম্পাদকীয় লেখার আগেও গত কয়েকদিন আগে করোনার ভয়াবহ পরিনতি নিয়ে সম্পাদকীয় লেখা হয়েছে।
আমরা সরকারকে বলেছি, প্রয়োজনে কঠোর হতে। জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে। আজকের আগের দিন পর্যন্ত হিসাব করলে গত বছরের এ সময়ের পরিস্থিতিকে ভয়াবহভাবে অতিক্রম করেছে। এর আগে টানা পাঁচদিনের প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ করোনা সংক্রমিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মৃতের সংখ্যা ছিল ৫৯জন। এই যখন পরিস্থিতি, তখন স্বাস্থ্যবিধির ওপর কড়াকাড়ি আরোপের কোনো বিকল্প নেই। একটা বিষয় পরিষ্কার। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বর্তমান যে হাল, তাতে রোগীর বাড়তি চাপ ধারণ করার ক্ষমতা নেই এর। আইসিইউ সংকট শুধু নয়, সাধারণ বেডের সংকটও দেখা দিয়েছে। রোগীর চাপ আরও বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলা যায়। এমতাবস্থায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। আর এজন্য চারটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে। ঘন ঘন হাত ধোয়া, মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং টিকা গ্রহণ-এই চারটি বিষয় ঠিকমতো মানা হলে তা করোনা প্রতিরোধে কার্যকর হবে, সন্দেহ নেই। অনেকে ন্যূনতম মাস্কটিও কেন পরিধান করছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। মাস্ক পরিধানের ব্যাপারে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে।
আশার কথা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আজ থেকে বিকাল ৬টার মধ্যে ঔষধ এবং কাচাবাজার ছাড়া সবরকম দোকানপাট, মার্কেট ও জনসমাগম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ সিদ্ধান্ত যথার্থই মনে হয়েছে আমাদের। আমাদের কথা হলো, সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরিধান যেহেতু জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এ ব্যাপারে উদাসীনতা বা অবহেলা দেখানোর সুযোগ নেই কারও। জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা ফিরে আসুক-এটাই কাম্য।