‘চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ রাজস্ব আয়ে শীর্ষে’

16

নিজস্ব প্রতিবেদক

তৃণমূলে নাগরিক সেবা বাড়াতে জেলা পরিষদ কার্যকর ভূমিকা রাখছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকার জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের পর চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। জেলা পরিষদের কারণে জনগণের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। আয়ের দিক থেকেও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ প্রথম। চট্টগ্রামে যে টাওয়ারটি নির্মিত হয়েছে এটিই হবে দেশের জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত প্রথম ভবন।
গতকাল চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সেলাই মেশিন প্রদান, গৃহহীনদের জন্য নির্মিত গৃহের চাবি হস্তান্তর ও জেলা পরিষদ টাওয়ারের মূল ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেটি কেবিনেট অনুমোদন দিয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদেরকেও জেলা পরিষদের মেম্বার করা হয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবেই উন্নয়ন করতে এবং সবার মধ্যে কানেকটিভিটি বাড়াতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইউএনওদেরকে আইনের মাধ্যমে সভায় উপস্থিত থাকার সুবিধা দেয়া হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্র, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের মধ্যে নিবিড় সংযোগ হবে।
মন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ হবে। সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পথনকশা তৈরি হচ্ছে। এর চাহিদা হিসেবে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নেয়া হবে। এরমধ্যে আইনের অসঙ্গতি দূর করে সকল জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই সুন্দর বাংলাদেশ হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম বলেন, জেলা পরিষদের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নিজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিজস্ব আয় আছে বলেই ছোটবড় অনেক প্রকল্প হাতে নিতে সহজ হচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। জেলা পরিষদ অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন ভবনে উঠবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের ৬১টি জেলা পরিষদের মধ্যে কোথাও এরকম টাওয়ার নেই। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সেই ভবন নির্মাণ করেছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঘর দিচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীদের সেলাই মেশিন দিচ্ছে। কোভিডেও অনেক প্রশংসনীয় কাজ করেছে। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেতে চট্টগ্রাম কখনো বঞ্চিত হবে না।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শাব্বির ইকবালের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্যানেল চেয়ারম্যান কাজী আবদুল ওহাব। এসময় জেলা পরিষদের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রীর হাত থেকে সেলাই মেশিন গ্রহণ করেন দীপিকা ভট্টচার্য, জাহানারা বেগম, তাহমিনা আক্তার। সর্বমোট ৩৬৮ জনকে এদিন সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। একইভাবে জমি আছে ঘর নাই গৃহহীনদের মধ্য থেকে মো. হোসাইন, মো. গিয়াস উদ্দিন ও ফাতেমা বেগমকে ঘরের চাবি তুলে দেন মন্ত্রী। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৫০টি গৃহহীন পরিবারকে এ ঘর দেয়া হচ্ছে।