চট্টগ্রাম ওয়াসার সেবার মান বাড়ানো জরুরি

14

চট্টগ্রাম মহানগরীতে চট্টগ্রাম ওয়াসা হলো জনসাধারণকে পানি সরবরাহের সরকারি প্রতিষ্ঠান। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন হতে জানা যায় ওয়াসার পানি নিয়ে এলাকাবাসী খুবই সংকটে দিন কাটাচ্ছে। এক দিকে লাইন ফেটে অপচয় হচ্ছে ওয়াসার পানির। অন্যদিকে ফাটা লাইন দ্রæত মেরামতের কোন তৎপরতা চোখে পড়ছে না। অপচয় হচ্ছে পানি, অথচ সাধারণ নাগরিকরা গ্রীষ্ম এবং রমজান মাসে জরুরি পানি ঠিকমতো পাচ্ছে না। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি না পেয়ে জনগণের ভোগান্তি এবং হাহাকারের বিষয়টি পত্রিকার প্রতিবেদনে বিস্তারিত উঠে এসেছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, কর্তৃপক্ষ দায়সারা গোছের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরমের মধ্যে পানির প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। অপরপক্ষে রমজান মাসে নগরবাসীর বাড়তি পানির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার জো-নেই। কিন্তু ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে খুবই স্বাভাবিকভাবে ধরে নিয়ে ঢিমেতালে সেবাকাজ পরিচালনা করতে দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন করছে ভুক্তভোগীরা।
আমরা জানি চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহের সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-২) হতে দৈনিক ৫ কোটি লিটার পানি আসছে নগরে। এ নতুন প্রকল্পের পানি যুক্ত হওয়ায় ওয়াসার পানি সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ারই কথা। কিন্তু পানি নিয়ে নগরবাসীর সংকট কাটছে না বলেই মনে হয়। এর পেছনে ওয়াসার দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। লোকবল কম হলে তা বাড়িয়ে নগরবাসীর পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব ওয়াসার। সাধারণ জনগণ প্রতিমাসে ওয়াসার বিল পরিশোধ করে যাচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না পেয়ে নানা রকম পানি বিড়ম্বনার মধ্যে নগরবাসীকে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।
পত্রিকার প্রতিবেদন হতে জানা যায় অনেক এলাকায় রান্না ও অন্যান্য জরুরি কাজ ঠিকভাবে হচ্ছে না পানির অভাবে। কোন কোন এলাকায় এমন রমজান মাসে মসজিদগুলোতেও পানি সংকট তৈরি হয়েছে। শতকরা ৯০ভাগ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রহমত বরকতের এই রমজান মাসে ঠিকভাবে ইবাদত বন্দেগী করতেও পারছে না। যেসব এলাকায় ওয়াসার ফাইপলাইন ফেটে পানির ব্যাপক অপচয় হচ্ছে, সেগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করাই জনগণের দাবি। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে। বিভিন্ন এলাকায় ইফতার ও সেহেরীর সময়ও পড়তে হচ্ছে পানি বিড়ম্বনায়। আমরা মনেকরি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বৈশাখের এ তাপদাহের সময় এবং রমজান মাসের কথা মাথায় রেখে চট্টগ্রাম মহানগরীর স্বাভাবিক পানি সরবরাহের বিষয়ে যত্নশীল হবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা অতীতের চেয়ে অনেক শক্তিশালী ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে সক্ষম, তা আমরা সরকারের ভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত খবরাখবর হতে জেনেছি। সুতরাং ওয়াসার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সেবারমান বাড়ালে নগরবাসীকে প্রয়োজনীয় পানির অভাবে বিড়ম্বনা পোহাতে হয় না। এ বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি। সাধারণ নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজন মাথায় রেখে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ গ্রীষ্ম ও রমজান মাসে স্বাভাবিক পানি সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমন প্রত্যাশা নগরবাসীর।