চট্টগ্রামে হাসপাতালে দ্রুত বাড়ছে করোনা রোগী

20

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন হানা দেওয়ার পর প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। এতে হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর চাপ। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাসায় আইসোলেশনে থাকছেন রোগীরা।
এ কারণে অতিসংক্রমণ প্রবণ ওমিক্রন পরিবারের মধ্যেও বেশিমাত্রায় ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। আর অধিকাংশ রোগী বলছেন, আর্থিক সামর্থ না থাকায় বাসাতেই থাকতে হচ্ছে তাদেরকে। তবে ওমিক্রনে শারীরিক জটিলতা কম হওয়ায় অনেকে বাসায় থাকাটাকে নিরাপদ মনে করছেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পুষ্পল দত্ত জানান, করোনা সংক্রমণের পর অধিকাংশ মানুষ বাসা বাড়িতেই আইসোলেশনে থেকে যাচ্ছেন। এতে পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝে উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট অন্য যেকোন ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অত্যধিক সংক্রমণ প্রবণ।
তবে তিনি আশার কথা শুনিয়ে বলেন, ওমিক্রনের মধ্যে সংক্রমণের ক্ষমতা বেশি। কিন্তু এফেক্ট করার ক্ষমতা কম। যে কোনো মহামারির চরিত্র হচ্ছে ৩-৫ বছরের মধ্যে দুর্বল হয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রেও সেটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে, তাতে খুব বেশি সময় লাগবে না দৈনিক শনাক্ত হাজারে পৌঁছাতে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নগরে ২৬৩ এবং উপজেলায় ৩৩ জন। শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। অথচ নতুন বছরের প্রথম দিনে মাত্র ৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। ১৩ জানুয়ারি শনাক্ত হয়েছে ২৬০ জনের। সংক্রমণ বৃদ্ধির হারও উদ্বেগজনক। ১ জানুয়ারি ১ হাজার ৪৮৯টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয় ৯ জনের। শনাক্তের হার ০.৬০ শতাংশ। ১১ দিনের ব্যবধানে (১২ জানুয়ারি) শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ। ১ হাজার ৭৯০ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয় ২২২ জনের। শনাক্তের হার ১২.৪০ শতাংশ। পরদিন (১৩ জানুয়ারি) শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬০ জনে। শনাক্তের হারও ১০ শতাংশের বেশি। মানুষের উদাসীনতা ও অবহেলায় সংক্রমণ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেয়া তথ্যমতে, করোনার উপসর্গ হিসেবে সামান্য জ্বর-সর্দি দেখা দিচ্ছে। যা ৩/৪ দিনের ব্যবধানে আবার সেরেও যাচ্ছে। এ ধরনের মৃদু উপসর্গ থাকলেও অনেকেই নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। তারা এটিকে স্বাভাবিক সর্দি-জ্বর মনে করছেন। তবে যারা করোনা টেস্ট করাচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগেরই করোনা পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়লে শনাক্তের সংখ্যা আরও বাড়বে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩টি ল্যাবে ২ হাজার ৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ২৯৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে সর্বমোট ১ লাখ ৪ হাজার ১৮৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যাদের মধ্যে নগরের ৭৫ হাজার ৬১৪ জন এবং উপজেলার ২৮ হাজার ৫৭৪ জন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২ জন, বিআইটিআইডি ল্যাবে ৩২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩২ জন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে ১৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫২ জন এবং জেনারেল হাসপাতাল আরটিআরএল ল্যাবে ৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়। ইমপেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ২৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪০ জন, শেভরন হাসপাতাল ল্যাবে ৩৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩০ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ২৫১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জন, মেডিক্যাল সেণ্টার হাসপাতাল ল্যাবে ১২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জন, এপিক হেলথ কেয়ার ল্যাবে ১০৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৫ জন, ল্যাব এইডে ৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪ জন, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল ল্যাবে ৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জন, এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতাল ল্যাবে ১৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২ জন এবং বিমানবন্দরে ১৮১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল এবং পার্কভিউ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে করোনা রোগী রয়েছে ৪০ জন। তবে সকলে সুস্থ রয়েছে বলে জানান হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজাউল করিম আাজাদ।
তিনি বলেন, এক সাপ্তাহ আগে রোগী ছিল মাত্র ১৪ জন। এখন হয়েছে ৪০ জন। আর অধিকাংশ করোনা আক্রান্ত রোগী বাসাতে আইসোলেশনে আছেন। এ কারণে পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝেও দ্রুত করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে পার্কভিউ হাসপাতালের জিএম মোহাম্মদ হুমায়ুন জানান, এক সাপ্তাহ আগে আমাদের হাসপাতালে কোন করোনা রোগীই ছিল না। বর্তমানে রয়েছে ১৮ জন। এর মধ্যে ২ জন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।