চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ মৃত্যু নগরীতে কোতোয়ালী উপজেলায় হাটহাজারী

57

দেশে থেমে নেই করোনার তান্ডব। মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হু হু করে বাড়ছে। প্রতিদিনই ভাঙছে শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড। গত এক বছরে কোতোয়ালীতে করোনায় সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটেছে। আর উপজেলার মধ্যে সবেচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে হাটহাজারী এলাকায়।
এছাড়া গত এক বছরে চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪০৬ জন। এর মধ্যে নগরীতে ২৯৮ জন ও বিভিন্ন উপজেলায় ১০৮ জন। এদের মধ্যে নারীর চেয়ে পুরুষের মৃত্যু চারগুণের বেশি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন ষাটোর্ধ্ব বয়সীরা। গতকাল বৃস্পতিবার চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত এক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব এ তথ্য জানা যায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই বলে জানান জনস্বাস্থ্যবিদেরা।
প্রতিবেদন মতে, গত একবছরে করোনায় নগরীতে মারা যান ২৯৮ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে কোতোয়ালী থানা এলাকায়। এখানে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৩২ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে হালিশহর এলাকায়। এখানে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরপর বেশি মৃত্যু হয়েছে পাঁচলাইশ থানা এলাকায়। এই থানায় মারা গেছেন ২০ জন রোগী। চান্দগাঁওয়ে মারা গেছেন ১৮ জন। এছাড়া চকবাজারে ১৫ জন, খুলশীতে ১৫ জন, আগ্রাবাদে ১২ জন, পাহাড়তলীতে ১২ জন, দামপাড়ায় ১২ জন, আকবরশাহতে ১০ জন, বন্দরে ৮ জন, বায়েজিদে ৮ জন, বাকলিয়ায় ৭ জন, পতেঙ্গায় ৬ জন, সদরঘাটে ৬ জন, ডবলমুরিংয়ে ৪ জন, মোহরায় ৩ জন, লালখান বাজারে ২ জন, মাদারবাড়ীতে ৩ জন, কদমতলীতে ১ জন, ইপিজেডে ১ জন, এনায়েত বাজারে ২ জন, ঈদগাঁতে ৩ জন,বউবাজারে ১ জন, মোগলটুলীতে ১ জন ও মুরাদপুরে ১ জন, মেরিন সিটি কলেজ এলাকায় ১ জন, লেভেল পার্ক এলাকায় ১ জন, সিএমসিএইচ এলাকায় ১ জন, সিজিএইচ এলাকায় ২ জন, রাহাত্তারপুল এলাকায় ৪ জন, ফিরোজশাহ কলোনি এলাকায় ৩ জন, আসকারদিঘীর পাড় এলাকায় ২ জন, কর্ণফুলী এলাকায় ৪ জন, হাজারী লেইন এলাকায় ৩ জন, কাজীর দেউড়ি এলাকায় ১ জন, নাসিরাবাদ হাউজিং এলাকায় ৩ জন, কাট্টলী এলাকায় ৩ জন, ম্যাক্স হাসপাতালে ৩ জন।
একইভাবে মেট্রোপলিটন হাসপাতাল এলাকায় ৩ জন, ষোলশহর ২নং গেট এলাকায় ২ জন, বিশ্ব কলোনি এলাকায় ১ জন, সার্জিস্কোপ হাসপাতাল এলাকায় ২ জন, দেওয়ান বাজার এলাকায় ১ জন, বড়পোল এলাকায় ১ জন, মনসুরাবাদ এলাকায় ১ জন, রিয়াজউদ্দীন বাজার এলাকায় ২ জন, হিলভিউ এলাকায় ১ জন, চন্দনপুরা এলাকায় ২ জন, দেওয়ানহাট এলাকায় ১ জন, ব্যাটারি গলি এলাকায় ১ জন ও কালুরঘাট এলাকায় ১ জন করোনায় প্রাণ হারান।
অপরদিকে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন হাটহাজারীর থানায়। এই উপজেলায় ১৮ জন মারা গেছেন। এরপর সবেচেয়ে বেশি মারা গেছেন সীতাকুন্ড উপজেলায়। এখানে মারা গেছেন ১৪ জন। এছাড়া রাউজান উপজেলায় ১২ জন, পটিয়া উপজেলায় ১১ জন, সাতকানিয়া উপজেলায় ৮ জন, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮ জন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৭ জন, ফটিকছড়ি উপজেলায় ৬ জন, আনোয়ারা উপজেলায় ৬ জন, লোহাগাড়া উপজেলায় ৫ জন, স›দ্বীপ উপজেলায় ৩ জন, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ জন, মিরসরাই উপজেলায় ৪ জন ও বাঁশখালী উপজেলায় ২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এদিকে বয়সভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে ৬১ বছর বা তার উর্ধ্ব বয়সীরা সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এদের ২২৭ জনের মধ্যে ১৮৪ জন পুরুষ ও ৪৩ জন নারী রয়েছেন। ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ ও ২৮ জন নারী করোনায় মারা গেছেন।
এছাড়া ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে ৩৯ জন পুরুষ ও ১৩ জন মহিলা, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সের মধ্যে ৩ জন নারী, ১ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ১ জন নারী ও শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সের মধ্যে ৩ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে মারা গেছেন।