চট্টগ্রামে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

33

চট্টগ্রামে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে এক হাজার ২৭০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৪২ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। তিন মাস ১৩ দিন পর চট্টগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা ২০০ ছাড়ালো। এর আগে গত ১০ জুলাই চট্টগ্রামে একদিনে আক্রান্ত হয়েছিলো ২৫৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২০০ জন মহানগরের বাসিন্দা এবং ৪২ উপজেলার বাসিন্দা। নমুনা অনুপাতে শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। যা আগের দিনের তুলনায় ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি।
এর আগের দিন সংক্রমণ সংখ্যা ছিলো মাত্র ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তবে সংক্রমণ বাড়লেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। গণপরিবহণ ও বিভিন্ন জন সমাগমে মাস্ক না পরে অবাধে চলাফেরা করছে মানুষ। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও এসবের পরোরা করছে না সাধারণ মানুষ।
সিভিল সার্র্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে প্রায় এক লক্ষ ৭০ হাজার। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৮৭০ জন। এদের মধ্যে ১৭ হাজার ৮৫১ জন মহানগরের বাসিন্দা এবং ৬ হাজার ১৯ জন উপজেলা পর্যায়ের বাসিন্দা। নমুনা অনুপাতে শনাক্তের সংখ্যা ১৪ দশমিক ০৪ শতাংশ। চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে মোট ৩১৩ জন। এদের মধ্যে ২১৯ জন মহনগরের বাসিন্দা এবং ৯৪ জন উপজেলার বাসিন্দা। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা মুক্ত হয়েছে মোট ১৯ হাজার ৪৯৫ জন। আক্রান্ত অনুপাতে সুস্থতার হার ৮৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বর্তমানে চট্টগ্রামে চলমান করোনা আক্রান্ত রোগী আছে ৪ হাজার ৩৭৫ জন। এদের মধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে ১২৫ জন। বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে প্রায় ১২০ জন। অবশিষ্ট রোগীরা বাসায় হোম কোয়ারেন্টিনে আছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি পূর্বদেশকে বলেন, শীত বাড়ার সাথে সাথে সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। যেহেতু সংক্রমণ সংখ্যা উঠানামা করছে তাই এটাকে সেকেন্ড ওয়েব বলা যাবে না। বর্তমানে আক্রান্তের অধিকাংশই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে না। এছাড়া বেশিরভাগ রোগীর কোনো ধরনের লক্ষণ থাকে না। তবে সংক্রমণ বাড়লেও আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসা সামগ্রী মজুদ আছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ল্যাবগুলোতে নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের করণীয় সম্পর্কে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। ইতোমধ্যে বন্দর এলাকায় চালু হয়েছে বিদ্যানন্দ হাসপাতাল। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ মানষের সচেতনতা। মানুষ সচেতন হলেই সংক্রমণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
হাসপাতাল তথ্য বাতায়ন মতে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কোভিট ওয়ার্ডে ১৮ সাধারণ শয্যা খালি আছে। আইসিউ খালি আছে ৪টি এবং হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা খালি আছে ২৪টি। চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের কোভিট ওয়ার্ডে সাধারণ শয্যা খালি আছে ৩০টি এবং হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা খালি আছে ১টি। চসিক সিটি হল কোভিট আইসোলেশন সেন্টারে ২২৬টি সাধারণ শয্যা খালি আছে। সিএমপি বিদ্যানন্দ হাসপাতালে ৩৪টি সাধারণ শয্যা খালি আছে এবং হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা খালি আছে ২টি। বন্দর পতেঙ্গা করোনা হাসপাতালে ১৩টি সাধারণ বেড খালি আছে। এছাড়াও বর্তমানে নগরীর ৪টি হাসাপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট রয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসাইন পূর্বদেশকে বলেন, শীতকালীন করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় জেলা-উপজেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। হাসপাতালগুলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত কোভিট বেড ও চিকিৎসা সামগ্রী। এছাড়া অক্সিজেন সিলিন্ডারের পাশাপাশি রয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট। সংক্রমণ কমাতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।