চট্টগ্রামে মিলেছে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ধরন

24

করোনার ১০টি নমুনার ওপর গবেষণা চালিয়ে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ধরন পেয়েছে চট্টগ্রামের একদল গবেষক। গত এক মাস ধরে করোনার ধরন বের করার চেষ্টা করেছেন গবেষক দল। অবশেষে তা সফল হয়েছে।
এ গবেষণাটি চালিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের সার্বিক নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, অধ্যাপক ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদীপ দাশ, ডা. প্রণেশ দত্ত, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম ও ডা. তানভীর আহমদ নিজামী।
সিভাসু থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন করে এ গবেষণা কার্যক্রম চালানো হয়। গবেষণার অংশ হিসেবে করোনা ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকুয়েন্স (ডযড়ষব এবহড়সব ঝবয়ঁবহপব) বা জীবন রহস্য উন্মোচন করার জন্য ১০টি নমুনা পাঠানো হয় ঢাকায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। এরপর বিসিএসআইআর- এর দুইজন গবেষক ড. মো. সেলিম খান ও ড. মো. মোরশেদ হাসান সরকার এ গবেষণায় যোগ দেন। তবে গবেষণাটি মূলত চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ১০টি নমুনার মধ্যে ছয়টিতে করোনা ভাইরাসের যুক্তরাজ্যের ধরনের (ই.১.১.৭) উপস্থিতি রয়েছে এবং তিনটিতে দক্ষিণ আফ্রিকান ধরন (ই.১.৩৫১) রয়েছে। তবে কোন নমুনাতেই ভারতের ধরনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন বয়সের আক্রান্ত রোগীর কাছ থেকে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া ওই আক্রান্ত রোগীদের পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল বলেও জানিয়েছে গবেষণা দলটি।
১০টি নমুনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৫ এপ্রিলের আগেই যুক্তরাজ্যের ধরনের উপস্থিতি থাকতে পারে। একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ধরনও ছিল বলে ধারণা। এক্ষেত্রে আরও বেশি নমুনা থেকে ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স করলে প্রকৃত চিত্রটি স্পষ্ট হত। এছাড়া এ ১০টি নমুনার জিনোম সিকুয়েন্সের তথ্য পাবলিক ডাটাবেজ এওঝঅওউ-এ জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোভিডের প্রথম ঢেউয়েও সিভাসুর উদ্যোগে আটটি নমুনা থেকে ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মার্চ থেকে শুরু হয়। এ মাস থেকে করোনা প্রকোপ নতুন করে বাড়তে থাকে। গত এপ্রিলে চট্টগ্রামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড ভেঙেছে গত ১৩ মাসের। গত মাসেই চট্টগ্রামে করোনায় প্রাণ গেছে ১৩৬ জনের। আর শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ২৮৯ জন।
একদিনে মৃত্যু ৭ জনের, শনাক্ত ১০৬ : চট্টগ্রামে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনায় মারা গেছে ৪৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন করে ১০৬ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ হয়েছে। এদের মধ্যে নগরীর ৮৭ জন এবং বিভিন্ন উপজেলার ১৯ জন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫০ হাজার ২৮০ জনে। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, চট্টগ্রামের ৮টি ল্যাবে ৬৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০৬ জনের দেহে করোনা পজিটিভ হয়েছে। নতুন শনাক্তদের মধ্যে নগরীর ৮৭ জন এবং বিভিন্ন উপজেলার ১৯ জন। এ সময় চট্টগ্রামে করোনায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়।
ল্যাবভিত্তিক তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৫ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ১৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ জন ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ১১৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১ জনের শরীরে করোনা পাওয়া গেছে। একই সময়ে শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ১৫০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২০ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮ জন, জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ল্যাবে ৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৮ জন ও মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ১২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ জনের দেহে করোনা পাওয়া গেছে।