চট্টগ্রামে ফেব্রূয়ারির প্রথম সপ্তাহে আসছে

14

করোনার টিকা প্রদানে আগ্রহীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে। রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্মুখযোদ্ধারা পাবেন টিকা। তবে ১৮ বছরের কম এবং গর্ভবতী নারীরা ভ্যাকসিনের আওতায় থাকবে না। চট্টগ্রামে ফেব্রæয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনার টিকা আসবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার থেকে অনলাইন থেকে ফরম ডাউনলোড করে টিকার আবেদন করা যাবে। এজন্য তৈরি করা হয়েছে ‘সুরক্ষা অ্যাপস’ যা আইসিটি মন্ত্রণধালয়ের অধীনে রাখা হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপসে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফোন নম্বর দিয়ে লগ ইন করতে হবে। লগ ইন করার পর আশেপাশের কেন্দ্রগুলো ওই অ্যাপসে চলে আসবে। যখন কেউ তার ঠিকানা দেবে তখন আপনার চয়েস অপশন থাকবে। চয়েস অনুযায়ী পছন্দের কেন্দ্রে টিকা নেওয়া যাবে। এছাড়া একটি ফিরতি মেসেজে নিশ্চিত করা হবে তারিখ ও কেন্দ্রের নাম। নাগরিকরা তার পছন্দ অনুযায়ী ভ্যাকসিন প্রদান কেন্দ্র সিলেক্ট করতে পারবেন অ্যাপসের মাধ্যমে।
এছাড়া এক্সেল শিটেও করা হচ্ছে নাগরিকদের তালিকা। তালিকা থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাছাইকৃতদের প্রদান করা হবে করোনার ভ্যাকসিন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে চট্টগ্রামে ভ্যাকসিন আসবে। প্রথম চালানে চট্টগ্রামে আসবে ৩৫ কার্টন ভ্যাকসিন। প্রতি কার্টন ১২’শ ডোজ ভ্যাকসিন থাকবে। এরপর ধাপে ধাপে পরবর্তী চালানগুলো আসবে। ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি পূর্বদেশকে বলেন, চট্টগ্রামে ভ্যাকসিন প্রদানে চাহিদাপত্র করা হয়েছিলো সেটি বাতিল হয়েছে। এখন ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী। ভ্যাকসিনের প্রথম চালান ফেব্রæয়ারির প্রথম সপ্তাহ নাগাদ আসার আশা করা হচ্ছে। তবে ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা মানতে হবে। প্রতিটি রোগীকেই নির্দিষ্ট জেলা-উপজেলার নির্দিষ্ট কেন্দ্রেই ভ্যাকসিন নিতে হবে। ভ্যাকসিন নেওয়ার রোগীর পর প্রাশ্ব-প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের এক ঘন্টা কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। এ লক্ষ্যে ভ্যাকসিন প্রদান কেন্দ্রে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে ৩ কোটি ভ্যাকসিন দেড় কোটি মানুষকে দেওয়া হবে। প্রথম ডোজ নেওয়ার ৮ সপ্তাহ পর দেওয়া হবে টিকার দ্বিতীয় ডোজ। প্রথম চালানে যারা ভ্যাকসিন পাবে তাদেরকে দ্বিতীয় চালানের টিকা দেওয়া হবে না। প্রথম চালানে ভ্যাকসিন পাওয়া রোগীরা ভ্যাকসিন পাবে তৃতীয় চালান থেকে। চতুর্থ চালানের টিকা দেওয়া হবে দ্বিতীয় চালানের টিকা যারা নিয়েছে তাদেরকে। তবে সাধারণ মানুষ ভ্যাকসিন পাবে দেরিতে।
এদিকে, চট্টগ্রামে ভ্যাকসিন প্রদান কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, সিএমএইচ, পুলিশ হাসপাতালকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়াও ৪টি হাসপাতাল বিবেচনায় আছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে মহানগরের বাসিন্দারা ভ্যাকসিন পাবেন। পরের ধাপে উপজেলা পর্যায়েও ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। উপজেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেখানে প্রথমে ডাক্তার ও নার্সরা ভ্যাকসিন পাবেন।