চট্টগ্রামে অরুণদা ছিলেন সাহিত্যের অন্যতম অভিভাবক

7

 

অরুণ দাশগুপ্ত ছিলেন চট্টগ্রামের প্রবীণ সাংবাদিক, খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্যিক। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বহুল প্রচারিত দৈনিক আজাদীর তিনি সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। তরুণ সাহিত্যকর্মীদের তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার অন্যতম কর্তধার। তাঁকে ঘিরে চট্টগ্রামে একটি চমৎকার সাহিত্য জগৎ তৈরি হয়েছিল। চট্টগ্রাম শহরে কিংবা গ্রামে যে কোন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আলোচনা হলেই অরুণদার ডাক পড়তো। বয়সের ভারে ন্যূব্জ হওয়ার কারণে তিনি লাঠির উপর ভর করে অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত হতেন। তখন তাঁকে দেখে মনে হত- এ সময়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতির বাগানে তিনিই অন্যতম পাহারাদার।
চাটগাঁর সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের তিনি ছিলেন অগ্রদূত। চট্টগ্রামের সাহিত্য পাড়ায় তিনি অগ্রজ অনুজদের কাছে দা’মনি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তবে বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাহিত্য জগৎ থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। অভিমানী কবি জীবনানন্দ দাশের মতো অনেকটা নির্জনতাকে বেছে নিয়েছিলেন। থাকতেন পৈতৃক বাড়ি পটিয়ার ধলঘাটে।
বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রামে একটি সাহিত্যাসরে তাঁর সাথে আমার দেখা হয়েছিল। চোখে কম দেখতে পেতেন। পরিচয় দিতে ভালোবাসায়, স্নেহে- আদরে একেবারে কাছে টেনে নিলেন। পরিবারের আপনজনের মতো করে আলাপে মশগুল ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে শুভ কামনা জানিয়ে বিদায় নিয়েছিলাম। এরপর আর সরাসরি দেখা হয়নি। পরে শুনেছি তিনি আজাদী ছেড়ে নিজ বাড়িতে চলে গেছেন।
চট্টগ্রাম কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বেশ কয়েকবার অগ্রজদের সাথে অরুণদার বাসায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তখন আমরা শিক্ষার্থী। আমাদেরকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল তাঁর সাহিত্য বিষয়ক আড্ডা। মুগ্ধ হয়েছি সাম্প্রতিক বিশ্ব সাহিত্য নিয়ে তাঁর ভাবনা দেখে। বর্তমানে এমন অভিভাবকতুল্য সাহিত্য কর্মী সত্যিই বিরল।
চট্টগ্রামের এই মনীষীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। নিজ কর্মে অনন্য সাহিত্য জগতের এ মানুষটি চির জাগ্রত থাকুক আমাদের হৃদয়ে ও মননে।