চকরিয়ায় অপহরণের দেড়ঘণ্টায় ছাত্রী উদ্ধার, আটক ৪

20

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণের দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে স্থানীয় জনতার সহায়তায় ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের চোয়ারফাঁড়ি স্টেশন থেকে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের ঘটনার সাথে জড়িত চার তরুণকেও আটক করে পুলিশ। তবে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে চালক পালিয়ে যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার দিকে উপকূলীয় ইউনিয়ন বদরখালীস্থ নিজ বাড়ি থেকে বার্ষিক পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে অপহৃত হয় ওই মাদ্রাসা ছাত্রী।
আটককৃত অপরহরণ চক্রের সদস্যরা হলেন বদরখালী ইউনিয়নের গোয়াখালী পাড়া এলাকার মো. হোসেনের ছেলে নূর হোসেন (১৯), জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রাশেদ (১৮), মোহাম্মদ এমদাদুল হকের ছেলে মো. সাগর (১৮) ও আবুল হাশেমের ছেলে মো. মোশাররফ (১৯)।
অপহরণের শিকার মাদ্রাসা ছাত্রী জানান, বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সকালে আমি নিজ বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাচ্ছিলাম। ৯ টার দিকে আমি ফুলতলা নামক এলাকায় পৌঁছলে হঠাৎ চারজন তরুণ আমাকে ঘেরাও করে জোরপূর্বক একটি নোহা গাড়িতে তুলে নিয়ে চকরিয়া উপজেলা সদরের দিকে রওনা হয়। গাড়িটি সকাল ১০ টার দিকে সাহারবিল ইউনিয়নের চোয়ারফাঁড়ি স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে জ্যামে আটকা পড়ে। এ সময় স্টেশনে লোকজন দেখে আমি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার দিলে স্টেশনে উপস্থিত পার্শ্ববর্তী লোকজন গাড়িটি ঘেরাও করে ফেলে। পরে তারা আমাকে উদ্ধার ও অপহরণের ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেয়। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহরণের ঘটনায় জড়িত চার তরুণসহ আমাকে থানায় নিয়ে আসে।
অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রী আরও বলেন, বদরখালী থেকে অপহরণ করে নিয়ে আসার পথে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা গাড়ির ভেতর আমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, অপহরণকারী চক্রের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া মাদ্রাসা ছাত্রী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় আটক চারজনকে আসামি করে মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।