ঘুড়ির বায়না

11

 

ছোট্ট ছেলে নাবিল। সে মায়ের খুব আদরের। নাবিল হলো বড় এক ভাই ও এক বোনের ছোট। আর ছোটদের প্রতি সব মায়েদের আদর একটু বেশিই থাকে।
নাবিল দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। খুবই দুষ্ট। বলতে গেলে লেখাপড়ায় মনোযোগ শূন্যের কৌটায়। আবার প্রতিদিনই নিয়মতান্ত্রিক স্কুলে যায়। মায়ের সাথে যায় আবার ক্লাস শেষে ছুটি হলে মায়ের সাথেই আসে।
একদিন সে স্কুল থেকে ফেরার পথে দেখতে পেল মাঠে ছোটছোট ছেলেরা ঘুড়ি উড়াচ্ছে। এটা দেখে সে তার মায়ের কাছে বায়না ধরে বলল- মা আমাকে একটা ঘুড়ি কিনে দেবে! আমিও তাদের মতো মাঠে ঘুড়ি নিয়ে খেলব! মা বলল না বাবা! তুমি ভালো করে লেখাপড়া করো না তাই তোমাকে ঘুড়ি কিনে দেওয়া যাবে না। নাবিল বলল মা ও মা! আমি আজকে থেকে মন দিয়ে লেখাপড়া করবো। এই কথা শুনে মা বলল ঠিক আছে। আমি আজকে থেকে তোমার প্রতি নজর রাখবো। যদি ভালো করে পড়ালেখা করো, তাহলে তোমাকে সুন্দর দেখে একটা ঘুড়ি কিনে দেব। একথা শুনে নাবিল তার মাকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু দিয়ে বলল ঠিক আছে মা। আজকে থেকে আমি ভালো করে পড়া শিখবো। মা তুমি না অনেক ভালো!

প্রতিদিন তাকে জোড় করে পড়তে বসাতে হয়। কিন্তু আজ ঘটেছে তার বিপরীত ঘটনা! আজকে নাবিল সন্ধার পরপরই নিজ থেকেই পড়তে বসেছে। কারণ এখন তার মনে একটাই কল্পনা- মায়ের সামনে ভালো করে লেখাপড়া করতে হবে। তাহলেই তার মা তাকে ঘুড়ি কিনে দিবে। এভাবে কেটে গেলো দু’তিন দিন। নাবিল এখন খুব মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে।

আর প্রতিদিন পড়া থেকে উঠেই মাকে বলে, মা আমাকে কবে ঘুড়ি কিনে দেবে? মা বলল আগামীকাল দেব। এখন খুশিত? নাবিল মাথা নেড়ে বলল, হুম মা। পরের দিন স্কুল থেকে ফেরার সময় তার মা তাকে নিয়ে ঘুড়ির দোকানে গেল। নাবিল তার নিজের পছন্দ অনুযায়ী নীল রঙ্গের একটা ঘুড়ি কিনল। সে এখন খুব খুশি কারণ তার মা তার আশা পূরণ করেছে। সে এখন প্রতিদিন বিকেলবেলা মাঠে ঘুড়ি নিয়ে খেলত যায়।