ঘুষ দেয়া-নেয়া দুটোই অপরাধ

26

আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশে নানা ধরনের অনাচার প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে তেমন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বললেই চলে। যার ফলে এই সব অনাচার দিন দিন বেড়েই চলেছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মারপিট, শ্লীলতাহানি, ঝগড়া, বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি অনাচারের ফলে সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ঠ। এসব অনাচারের মধ্যে ঘুষ একটি। ঘুষ একটি অন্যতম সামাজিক ব্যাধি। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি স্থানে ঘুষ আদান-প্রদান হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া বর্তমানে কোনো কাজ সংঘটিত হচ্ছে না বললেই চলে। ঘুষ অর্থ উৎকোচ। অবৈধ পথে কার্যসিদ্ধির জন্য প্রদত্ত গোপন পারিতোষিকই ঘুষ। কর্তব্যরত কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে কাজ আদায় করার উদ্দেশ্যে কিছু দেওয়া ঘুষের অন্তর্ভুক্ত। ঘুষ একটি সামাজিক অপরাধ। ঘুষ গ্রহীতাকে সকলে ঘৃণা করে।
ঘুষ নেওয়া এবং দেওয়া দুটি’ই পাপ কাজ। ঘুষ গ্রহীতা ও দাতার উপর সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ বর্ষিত হয়। ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামি। ইসলাম ঘুষকে হারাম ঘোষণা করেছে। মহান আল্লাহ তায়ালা ঘুষের সম্পদকে হারাম ও অপবিত্র ঘোষণা করেছেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, ‘ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামি’ (তাবারানি)। বর্তমানে কাউকে চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ঘুষ আদান প্রদান বেশি হচ্ছে। যা চরম অপরাধ। ঘুষের টাকা দিতে না পারলে তাকে চাকরি দেওয়া হয় না ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে না। ঘুষ আদান প্রদান হলো নৈতিকতার বিপরীত। এর ফলে মানুষের অর্থ-সম্পদ অপবিত্র হয়ে যায়। আমাদের সমাজে কেন ঘুষ আদান প্রদান হয়? ঘুষ ছাড়া এখন আমাদের সমাজে মানুষ চাকরি পায় না। একজন শিক্ষার্থীর যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও ভালো স্কুলে পড়ালেখা করতে পারে না। আমার আগে অনেক মানুষ ঘুষ নিয়ে অনেক লেখা লিখেছেন। তবুও আমাদের সমাজের পরিস্থিতি ঠিক হবার নয়। একদিন সবাই তাদের পাপের ফল পাবে। একদিন সবাই তাদের পাপের যোগ্য শাস্তি পাবে। এখনও সময় আছে। সময় থাকতে মানুষ যদি শুধরে না যায় এবং নিজের ভুল বুঝতে না পারে তাহলে তাদের ধ্বংস অনিবার্য। তাদের ধ্বংস কেউ আটকাতে পারবে না। তাই সবার উচিত সময় থাকতে নিজের ভুল বুঝে নিজেকে সংশোধন করা। সবার উচিত ঘুষ ত্যাগ করে ভালোবাসা, বন্ধন, স¤প্রীতির জীবন গড়া। সবার উচিত নৈতিকতার দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে রেখে গিয়ে মানুষের অন্তরে ও পৃথিবীর ইতিহাসে অমর হয়ে থাকা।
নূরতাজ তাফহিমা খান, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী
অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নন্দনকানন, চট্টগ্রাম।