ঘুমধুম থেকে রেললাইন চীন-থাইল্যান্ডও যাবে

45

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্পটি ট্রান্স এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে চীন, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি গতকাল রবিবার দুপুরে সিআরবি জিএম কনফারেন্স রুমে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান।
রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে হাইস্পিড ট্রেন প্রকল্পটি চালু হলে নন স্টপে ৫৭ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়া যাবে।
রেলমন্ত্রী বলেন, রেলকে গতি দেওয়ার জন্য, আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের পরিকল্পনা একটাই-তা হলো উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা আছে, তিনি এ রেলকে প্রত্যেকটি জেলায় নিয়ে যাবেন। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার প্রকল্পের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, আলাদা একটা রেললাইন তৈরি করার পরিকল্পনা আছে। সেটি ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী হয়ে চট্টগ্রামে আসবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে। এছাড়া আখাউড়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশ আগরতলার সঙ্গেও সংযুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ।
রেলমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে রেলওয়ের যোগাযোগ ছিলো-তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেই জায়গাগুলোতে আবারও রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করার কাজ চলছে। চলমান প্রকল্পগুলো যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে রেলওয়ের যে ঐতিহ্য তা ফিরে আসবে।
রেলমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপনের পর দক্ষিণাঞ্চলের সমস্ত জেলা এর সঙ্গে যুক্ত হবে। আখাউড়া দিয়ে আগরতলা হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে রেলের সংযোগ হচ্ছে। পাকিস্তান-ভারতের যুদ্ধের পর ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগের যে জায়গাগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।
কর্ণফুলী নদীর ওপর বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু নির্মাণের অগ্রগতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একনেকে এটা উঠেছিল। কিন্তু কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে এটা আটকে গেছে। এই সমস্যা আমরা দূর করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছেন। যেদিন রেল মন্ত্রণালয়ে আসবেন, সেদিন এটা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করবো। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা নিয়ে কাজ করবো।’
তিনি বলেন, আমাদের আন্তরিকতা ও সততা দিয়ে কাজ করতে হবে। আমার মেয়াদ ৫ বছর। বলা যায়, সময়টা সকাল-বিকেল। আমি যদি যোগ্যতার পরিচয় না দিতে পারি, তাহলে আমি চেয়ারে নেই। আগামী প্রজন্মকে বাসযোগ্য একটি দেশ উপহার দিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যারা একসময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল তারাই পরিকল্পিতভাবে এ দেশটাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। আন্দোলন আমরাও করেছি, তাদের মতো জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করিনি। মানুষ মারার রাজনীতি করিনি। ২০১৩-১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন দেশের মানুষ দেখেছে, কীভাবে তারা রেলে আগুন দিয়েছে। নিরীহ মানুষের উপর পেট্রোল বোমা হামলা, মানুষকে হত্যা করা-এই ছিলো তাদের আন্দোলন। এগুলো তো রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম।
টেন্ডারবাজি বন্ধে পদক্ষেপ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগে থেকেই কাউকে খারাপ বলতে চাই না। কাউকে আগে থেকেই ভালোও বলতে চাই না। কাউকে প্রতিদ্ব›দ্বী মনে করি না। কিন্তু কেউ যদি ভালো কাজে বাধা হয়ে আসে, আমরা সেটা অপসারণ করবো। যে আমার ভালো কাজে সহযোগিতা করবে, সে আমার বন্ধু হবে। যে আমার কাজে বাধা হবে, সে যতই শক্তিশালী হোক, দেখা যাবে।’
রেলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালের ডিসেম্বরে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে রেল মন্ত্রণালয়কে আলাদা করা হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে রেলকে গতি দেওয়ার জন্য এবং রেলকে সাধারণ মানুষের বাহনে পরিণত করে আগের অবস্থায় নিয়ে যাবার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে উন্নয়নের পরিকল্পনা, এর আওতায় রেল মন্ত্রণালয়েও অনেকগুলো অগ্রাধিকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বাজেট বরাদ্দ ধীরে ধীরে বাড়ছে। প্রত্যেকটি জেলায় রেলকে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
তিনি বলেন, রেলের ঐতিহ্য অবশ্যই ফিরে আসবে। এখন আন্তরিকতা, সততা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। আমাদের আরও বেশি শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। কত কম সময়ে ও সাশ্রয়ে কাজগুলো করা যাবে, সেই চিন্তা করতে হবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় রেলের মহাপরিচালক কাজী মো. রফিকুল আলম ও পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমেদও বক্তব্য রাখেন।

­