ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে ফিরেছে স্বস্তি

8

বান্দরবান ও উখিয়া প্রতিনিধি

বান্দরবানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। সীমান্ত শান্ত রয়েছে। গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে না। এ কারণে ঘুমধুম-তুমব্রু এলাকায় বন্ধ থাকা পাঁচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
জানা গেছে, ২৩ দিন বন্ধ থাকার পর আজ বুধবার থেকে বিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত ক্লাস চলবে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গোলাগুলির কারণে সীমান্তে থাকা বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
৩০ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খোলা থাকলেও আতঙ্কে কেউ স্কুলে যায়নি। তবে ৪ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেলের বিস্ফোরণে একজন বাংলাদেশি নারীসহ দুইজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সীমান্তবর্তী ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকার স্কুলগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বিদ্যালয়গুলো হলো- উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাজাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিমকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরত্ন চাকমা জানান, বুধবার থেকে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে। তিনি বলেন, ঘুমধুম সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কারণে সাময়িক বন্ধ থাকা বিদ্যালয়গুলোয় নিয়মিত ক্লাস চলবে।
বাইশফাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল কবির বলেন, ২৩ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার থেকে নিয়মিত ক্লাস চালু হবে বিদ্যালয়ে।
বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত, তাই স্কুলগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বুধবার থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে বান্দরবান-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। সীমান্তে বসবাসরত মানুষের মাঝে স্বস্তি এসেছে। কৃষি কাজে যাচ্ছেন চাষীরা। মিয়ানমারের অভ্যান্তরীণ উত্তেজনার প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশ সীমানা ঘেষা ঘুমধুম-তুমব্রু এলাকার ব্যবসায়ীসহ সীমান্তবাসীর মাঝে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ জানান, ঘুমধুম ইউনিয়নের মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোলাগুলি চলমান রয়েছে। গেলো দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান থেকে ছোঁড়া গুলি।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, সীমান্ত শান্ত রয়েছে। গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে না। শ্রমিকরা কাজে ফিরছে, ক্ষেত-খামারে ফিরছে কৃষকেরা। আশা করি, শান্তি ফিরে আসবে।
বিজিবির সূত্রগুলো জানায়, সীমান্ত দিয়ে দুষ্কৃতকারী ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বিজিবি। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তে এখন শান্ত হলেও কড়া নজরদারি এবং টহল জোরদার রয়েছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।