গ্রাহকের ৩০ হাজার ডাটা মুছে ফেলেছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স

26

 

ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি লিমিটেডের ডাটাবেইস থেকে প্রায় ৩০ হাজার ডাটা মুছে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোম্পানির চলমান অডিট কার্যক্রম ব্যাহত করার জন্য আইটি বিভাগ গণগ্রামীণ বিভাগের কালেকশন টেবিল, মানি রিসিট, প্রিমিয়াম রিসিট সংক্রান্ত প্রচুর পরিমাণ ডাটা মুছে ফেলে।
অডিটরের তরফে বলা হয়েছে, ডাটা ডিলিটের ঘটনা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টেও ডাটা ডিলিটের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নিয়োগ করা অডিট ফার্ম একনাবিন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সে নিরীক্ষা চালায়। অডিট ফার্ম অডিট কার্যক্রম পরিচালনাকালে ২০২১ সালের ২৭, ২৮ ও ৩১ অক্টোবরের চিঠিসহ বেশ কিছু চিঠি ডেল্টার আইটি ইনচার্জ কাজী এহতেশাম ফয়সালের কাছে গণগ্রামীণ বীমা বিভাগের ডাটাবেইসের তথ্য চেয়ে রিকুইজিশন দেয়। পরবর্তীতে কাজী এহতেশাম ফয়সাল ও শেখ মহসিন রেজার (এভিপি, আইটি) বিরুদ্ধে বীমা পলিসি গ্রাহকদের ডাটা ডিলিট সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া যায়।
একনাবিনের ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর ও ৩০ ডিসেম্বরের অডিট রিপোর্টে ডাটা ডিলিটসহ কম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান, তার ছেলে সাসপেন্ডেড পরিচালক জিয়াদ রহমান এবং তার মেয়ে সাবেক সিইও আদিবা রহমানসহ বেশ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিন হাজার ৬৮৭ কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের এবং দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। চলমান অডিটের কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই আইটি বিভাগ থেকে ডাটা ডিলিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আইডিআরএর চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘গ্রাহকের আমানতের তথ্য ডিলিট করা গর্হিত অপরাধ। এতে পলিসিহোল্ডারের স্বার্থ এমনকি সরকারের স্বার্থও বিঘিœত হয়েছে। কারণ এই কম্পানিতে সরকারের পৌনে চার শ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। এই বিষয়ে দুদক তদন্ত করছে।’