গুলশান হামলার সর্বশেষ পলাতক আসামিও গ্রেপ্তার

61

ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পলাতক এক আসামিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে খালিদ ওরফে রাহাত ওরফে নাহিদ ওরফে আবু সুলাইমান (২৭) জঙ্গি গোষ্ঠী ‘নব্য জেএমবির’ শীর্ষ পর্যায়ের নেতা বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব ক্যাম্পের ইনচার্জ সাঈদ আব্দুল্লাহ আল মুরাদ জানান, শুক্রবার (গতকাল) বেলা ৩ টার দিকে নাচোল-মহিপুর সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার আসামি শরিফুল দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন’। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা মুরাদ।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজান বেকারিতে পাঁচ তরুণের ওই হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে জবাই ও গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন কমান্ডো অভিযানে নিহত হন হামলাকারী পাঁচ তরুণ- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাজ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। খবর বিডিনিউজের
দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, নব্য জেএমবির জঙ্গিরা ছয় মাস ধরে পরিকল্পনা করে ওই হামলা চালিয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, দেশকে ‘অস্থিতিশীল’ করা, বাংলাদেশকে একটি ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ বানানো।
আসামিদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে গতবছর ২৬ নভেম্বর আলোচিত এ মামলার বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মুজিবুর রহমান।
মামলার আসামিদের মধ্যে নব্য জেএমবির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান ও হাদিসুর রহমান সাগরকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাকি দুই আসামি শরিফুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপনকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার চলছিল। তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে সম্পত্তি জব্দেরও নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
গত ১৯ জুন মধ্যরাতে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর এই হামলা মামলার অপর আসামিকে ধরতে কয়েকদিন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তৎপরতা চালায় র‌্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জের শিবনায়ণপুরে অভিযান গিয়ে ব্যর্থ হন র‌্যাব সদস্যরা। সে সময় র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছে জঙ্গি।
র‌্যাব-৫ এর উপঅধিনায়ক মেজর শিবলী মোস্তফা বলেন, ‘শীর্ষ জঙ্গি শরিফুল ইসলাম হোলি আর্টিজান হামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি। তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে’।
শরিফুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। ওই বিভাগেরই অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় যে দু’জনের মৃত্যুদন্ড হয়েছে, তাদের একজন শরিফুল। দেশজুড়ে ব্লগার, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট এবং মুক্তমনা লেখক, প্রকাশক শিক্ষকদের ওপর একের পর এক হামলা, হত্যার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল রাজশাহী নগরের শালবাগান এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে ৫০ গজ দূরে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে।
জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য শরিফুলই এই হত্যাকান্ডের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ বলে আদালতের রায়ে বলা হয়।