গাজায় যুদ্ধবিরতিতে গান-খেলায় শিশুদের বিরল আনন্দ

12

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের লাগাতার লড়াইয়ের পর হওয়া যুদ্ধবিরতি অধিবাসীদের জন্য যেমন স্বস্তি বয়ে এনেছে, তেমনি উদ্বাস্তু শিশুদের জন্যও নিয়ে এসেছে আনন্দের বিরল মুহূর্ত। ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি চলছে গত শুক্রবার থেকে। আর এ সুযোগেই এক স্কুল প্রাঙ্গণে বিরল আনন্দে মাততে দেখা গেছে শিশুদেরকে। তারা হাততালি দিয়ে, গেয়ে, খেলে, লাফালাফি করে আনন্দ করেছে। তাদের হাতে ধরা ছিল নানা রঙের কাপড়ে তৈরি একটি প্যারাসুট।
যুদ্ধের কারণে গাজার স্কুলগুলো উদ্বাস্তু মানুষদের উপচে পড়া আশ্রয়শিবির হয়ে উঠৈছে। সেখানকার শিশুরা বোমা হামলার ভয়, বাড়িঘর ছেড়ে এসে খাবার, পানি এবং বিদ্যুতের অভাবের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এমনই এক শিশু লিনার উক্তি, “আমরা যুদ্ধের ভয়ে খুবই আতঙ্কিত।” খান ইউনিসের আবদুল্লাহ সিয়াম স্কুলে খেলাধুলা, নাচ-গানে লিনাও অংশ নিয়েছে। তার গালে আঁকা ফিলিস্তিনের পতাকা। পরনে গোলাপি সোয়েটার।
স্থানীয় একটি নাগরিক-সামাজিক সংগঠন ওয়াতান ইয়ুথ সেন্টার ওই এলাকার ২৬ টি স্কুলে শিশুদের জন্য এমন সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। লিনা জানায়, আয়োজকরা আসতেই সবাই তাদের দিকে দৌড়ে গেছে। তারা শিশুদের জন্য কিছু ফিলিস্তিনি গান বাজিয়েছে। আর এর সঙ্গে শিশুরা সবাই লোকনৃত্য করেছে, গেয়েছে আর কিছু খেলাও খেলেছে। ‘আজ অনেকই মজা হয়েছে’, বলে ওঠে লিনা।
শিশুদের বিরল আনন্দের এমন মুহুর্ত আশেপাশের রেলিংয়ে হেলান দিয়ে, স্কুলের উপরের তলা থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে বড়রা। ওয়াতান ইয়ুথ সেন্টারের দলনেতা সামির নোফাল বলেন, “ফিলিস্তিনি শিশুরা বিশেষত, গাজার শিশুরা বিশ্বে সবচেয়ে ভাল। কারণ, তারা এত কিছু সয়েছে। আমরা যুদ্ধবিরতির সুযোগে শিশুদেরকে বিনোদোন দেওয়ার জন্য এই আয়োজন করেছি। যাতে তাদের মানসিক চাপ কমে।”