গাজায় নির্বিচার বিমান হামলা পাল্টাপাল্টি হামলায়

15

পূর্বদেশ ডেস্ক

হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের জেরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। গতকাল রোববারও পাল্টাপাল্টি তীব্র হামলা চালিয়েছে দুই পক্ষ। দুই দিন ধরে চলা হামলায় ৬ শতাধিক ইসরায়েলি ও ৩৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত কয়েক হয়েছেন উভয় পক্ষের কয়েক হাজার। এরই মধ্যে হামাসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে হেজবুল্লাহ মিলিশিয়া লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের হামলায় সংঘাত গাজার বাইরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ছয় শতাধিক ইসরায়েলি নিহত হয়েছে বলে দেশটির প্রেস অফিস জানিয়েছে। এছাড়া অপহরণ করা হয়েছে আরও অন্তত একশো ইসরায়েলিকে। আর গাজায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৩৭০ জন ফিলিস্তিনি। সংঘর্ষে ইসরায়েলে ২ হাজার দুইশো আর ফিলিস্তিনে দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
চলমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে নতুন করে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিøঙ্কেন বলেছেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। ইসরায়েলিরা যে সুনির্দিষ্ট অতিরিক্ত অনুরোধ করেছে তা দেখছি। খবর রয়টার্স, বিবিসির।
এদিকে হামাসের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো দেশটির মন্ত্রিসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। রোববার টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে আরও বলা হয়েছে, গাজা থেকে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর এ যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েল শনিবার রাতভর গাজার বিভিন্ন হাউজিং ব্লক, সুড়ঙ্গ, মসজিদ এবং হামাস কর্মকর্তাদের বাড়িতে বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে। চলমান হামলায় এরই মধ্যে ধ্বংস হয়েছে হামাসের কার্যালয়, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এর পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি ও অন্যান্য ভবনও।
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর বাংলাদেশ সময় গতকাল রাত সাড়ে ১১টা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের বন্দুকধারীদের সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর লড়াই চলছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হামাসের দখল থেকে ২২টি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারা। ফিলিস্তিনের শত শত হামলাকারীও নিহত হয়েছে। তবে আরও ৮টি এলাকায় এখনও লড়াই চলছে।
কয়েক দশকের মধ্যে শনিবার হামাস আকস্মিকভাবে ইসরায়েলে হামলা চালায়। দিনটি ছিল ইহুদিদের ছুটির দিন। ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা রকেট হামলা চালানোর পাশাপাশি সুপরিকল্পিতভাবে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথ ব্যবহার করে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকে পড়ে।
তারা কয়েক ঘণ্টা ইসরায়েলি শহর ও সেনাচৌকি অবরুদ্ধ করে রাখে। অভিযানে বেশ কিছু ইসরায়েলি নিহত হয়। কিছু ইসরায়েলি নাগরিককে জিম্মি করে গাজায়ও নিয়ে যায় ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীরা।
ওদিকে, গাজায় হামাসের মুখপাত্র আব্দেল-লতিফ-আল-কানুয়া বলেছেন, আমাদের জনগণের প্রতিরক্ষার খাতিরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলে রকেট হামলা এবং অভিযান এখনও চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
৫০ বছর আগে ইসরায়েলে মিসর ও সিরিয়ার আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল চতুর্থ আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। শনিবার ইসরায়েলে হামাসের সবচেয়ে বড় এবং প্রাণঘাতী হামলার মধ্য দিয়ে সেই পরিস্থিতিরই পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের এ সংঘাতে ভেস্তে যাওয়ার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রচেষ্টা।
লেবাননের হেজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা উত্তরে ইসরায়েলের অধিকৃত সেবা ফার্ম এলাকায় একটি রাডারস্থলসহ তিনটি পোস্টে রকেট এবং গোলা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলও এর জবাবে দক্ষিণ লেবাননে গোলা হামলা চালিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধ বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়ারই আভাস দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামাসের সমর্থনে বিক্ষোভ হচ্ছে। ইরান এবং হেজবুল্লাহ হামাসের ইসরায়েলে হামলা প্রশংসা করছে। লেবাননে হামাসের নেতা ওসমান হামদান বলেছেন, শনিবারের অভিযানের পর আরব দেশগুলোর উপলব্ধি করা উচিত যে, ইসরায়েলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দাবি মেনে নিলেই তা শান্তি বয়ে আনবে না।