গাছ কাটার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল সিডিএ

5

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর টাইগারপাস এলাকায় শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্তে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে করা হয়েছে সমাবেশ ও মানববন্ধন। তারা গাছ কাটার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সিডিএ’র প্রতি আহবান জানান। এ অবস্থায় আপাতত গাছ কাটার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। টাইগারপাস থেকে পলোগ্রাউন্ড পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প (গাড়ি ওঠা-নামার পথ) নির্মাণে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত থাকলেও র‌্যাম্পের পুনঃনকশার কথা ভাবছে সংস্থাটি।
সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, র‌্যাম্পের পুনঃনকশা হবে। আপাতত ওই সড়কে র‌্যাম্পের কোনো কাজ হবে না। নকশাটি সর্বসাধারণের কাছে তুলে ধরা হবে। মতামত গ্রহণের পর সেটি চূড়ান্ত করা হবে। তখন বোঝা যাবে গাছ কাটতে হবে কি-না।সিআরবি পাহাড়ের পাদদেশে দ্বিতল সড়ক হিসেবে পরিচিত নগরীর টাইগারপাস থেকে পলোগ্রাউন্ড অংশে সম্প্রতি ৪৬টি গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়ে সেগুলো রঙ দিয়ে চিহ্নিত করে সিডিএ। বিষয়টি জানাজানির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সংগঠন সমাবেশ করে সিডিএকে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের আহবান জানান।
এদিকে র‌্যাম্প স্থাপনের জায়গাটি গতকাল সকালে পরিদর্শনে যান সিডিএ নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান। এসময় সিডিএ বোর্ড সদস্য স্থপতি আশিক ইমরানও উপস্থিত হন।
প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তা আমরা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। এ গাছগুলো রেখে কিভাবে কাজ করা যায়, তার লে আউট প্রণয়ন করেছি আমরা। ছোটখাটো যে গাছগুলো কাটা যাচ্ছে, যদি আমরা র‌্যাম্পটা বাস্তাবায়ন করতে পারি, তাহলে এরচেয়ে বেশি গাছ লাগাবো।
প্রায় ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ র‌্যাম্পটি পলোগ্রাউন্ড স্কুলের পাশ থেকে শুরু হয়ে টাইগারপাসে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে নিউ মার্কেট, কদমতলী হয়ে আসা পতেঙ্গামুখী গাড়িগুলো যানজট এড়াতে এ র‌্যাম্প ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।
উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে তিন হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ হয়েছিল। পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় চার হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকায়। এছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।